২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮

গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ

শিক্ষককে মারধরের ঘটনা  © সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে শিশুটির জবানবন্দিও। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবার করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পরে গতকাল শনিবার দুপুরে তদন্তের অংশ হিসেবে মাদ্রাসায় যায় পুলিশ। সেখানে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে, শেষ হলে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারবো।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীটি যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছে ঘটনার কথা জানায়।

এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা মামলা করেন।

এদিকে শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও অর্থ লুটের অভিযোগ নিয়ে শিশুটির পরিবার ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দিয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও হামলার শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুট করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

তবে শিশুটির বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে নয়। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মেয়ের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।