টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতাসহ যে তথ্য পেয়েছে পুলিশ
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সি এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে নেমে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে আদালতে শিশুটির জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। এতে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা (শিশুকে নিপীড়ন করা হয়েছে) পাওয়া গেছে। এখনো তদন্তের কাজ চলমান।’
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু জানায়নি। পরে মা-বাবার কাছে ঘটনার কথা বলে।
শিশুটির বক্তব্যের ভিত্তিতে তার বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে গত বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, টঙ্গীর ঘটনায় শিশুটি বিচারকের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। বিচারক তার বক্তব্য জবানবন্দি হিসেবে রেকর্ড করেছেন।
এর আগে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদ্রাসা থেকে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।