যে কারণে টঙ্গীর সেই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে পুলিশ
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তারের পর এবার ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর, সহকারী শিক্ষককে মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি সড়কে অবস্থিত ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা। এ সময় তিনি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মুসলেম উদ্দিনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ঘটনায় বহিরাগত লোকজন নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগও ওঠে।
এসব অভিযোগে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গত শুক্রবার বিকেলে শিক্ষার্থীর বাবাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পর থেকেই শিক্ষার্থীর বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও হট্টগোলের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
তবে শিক্ষার্থীর বাবা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি মাদ্রাসার একটি টেবিলের ওপর রাখা গ্লাস ভাঙা এবং একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধরের কথা স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, তিনি কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করতে মাদ্রাসায় যাননি; বরং মেয়ের ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে কোনো মব সৃষ্টি করতে যাইনি। আমি বিচার চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি কোনো বিচার পাইনি। আমি যা ভেঙেছি তার জন্য ক্ষতিপূরণও দিতে চেয়েছি। আমি শুক্রবার সন্ধ্যায় জানলাম আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আমার অপরাধ থাকলে আমি জেল খাটব। তবে আমি উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে, মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক মুসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বাবার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক আরও বেড়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ধর্মীয় বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরিফের একটি ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করেও। ওই শিক্ষার্থীর বাবা রুমিকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্যে তাকে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীর বাবাকে গ্রেপ্তারেও পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভিন্ন মন্তব্যও পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।