১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৩

পুড়ে এক হয়ে গেছে ৩ মরদেহ, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলবে পরিচয়, ধারণা নিখোঁজ নাহিদের পরিবারের

কক্সবাজারের উখিয়ায় পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্ট  © সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার করা তিনটি মরদেহের অবস্থান দেখে হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাঁদের ধারণা, এক নারী আগুনের মধ্যে শিশুকে বুকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। আর এক পুরুষ নিজের শরীর দিয়ে তাঁদের দুজনকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তারা নাহিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য হতে পারে।

আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

দোলন আচার্য বলেন, ‘শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলাম। এরপর কয়েকজন এসে আমাদের জানান, রিসোর্টের ভেতরে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন।’

তিনি জানান, পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে রিসোর্টের দোতলার একটি কক্ষ থেকে পাঁচটি পুড়ে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাশের একটি কক্ষের বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় এক পুরুষের মরদেহ। এ ছাড়া তিনতলার একটি বাথরুম থেকে আরও চারটি মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা।

ওই তিনটি মরদেহের অবস্থা বর্ণনা করে দোলন আচার্য বলেন, ‘এক নারীকে দেখে মনে হয়েছে, তিনি একটি শিশুকে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলেন, আর একজন পুরুষ নিজের শরীর দিয়ে তাদের দুজনকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনজনের মরদেহ এত বেশি পুড়ে গেছে যে প্রায় চেনার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তাদের পাশেই ছিল আরেক নারীর মরদেহ।’

এদিকে ওই রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে—সাত বছর বয়সী রুজাইনা ইনায়া ও তিন বছর বয়সী সুনাইনা ইহানা। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাঁদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স গণমাধ্যমকে বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে তাঁর ভাই, ভাবি ও তাঁদের এক সন্তান রয়েছেন বলে তাঁরা ধারণা করছেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষার ফল পাওয়ার আগে মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।