১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫১

ইশরাকের অভিযানের পরও সেই স্পটে মাদকের জমজমাট বিকিকিনি

গেন্ডারিয়ায় ইশরাকের অভিযান। শনিবারের ছবি  © ফাইল ফটো

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন সদ্য পদত্যাগ করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও  ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এই অভিযানের সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরদিন গতকাল রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিলে আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে প্রেস ব্রিফিং ডেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এদিকে, ইশরাকের অভিযানের পরও গেন্ডারিয়ায় সেই আলোচিত মাদকের স্পটে বেচাকেনা থামেনি। প্রকাশ্যেই চলছে মাদক কেনা-বেচা। সেখানকার কিশোর থেকে তরুণ, মধ্যবয়সী এমনকি বৃদ্ধরাও জড়িত এই বেচাকেনায়। পাশাপাশি নারীও আছেন কয়েকজন। তাদের কেউ কাঠের ও প্লাস্টিকের বাক্স বা প্যাকেট নিয়ে বসে আছেন, কেউ হাঁটাহাঁটি করছেন। তাদেরই কেউ কেউ পকেট থেকে কাগজের পুরিয়া বের করে ক্রেতার হাতে দিয়ে টাকা নেওয়ার দৃশ্যও প্রকাশ্যে দেখা গেছে।

সেখানকার স্থানীয় পুলিশ বলছে, জায়গাটি ভাসমান হওয়ায় লোকজন অনেক বেশি। যার ফলে সহজেই মাদক কেনা-বেচা হয়। তবে তারা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে থাকে।

দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন পর্যন্ত রেললাইনের পশ্চিম পাশের ঘুণ্টিঘর— এই এলাকাটি দেখে মনে হয়, কোনো হাটেবাজারে কোনো পণ্য বেচাকেনা চলছে। বেচাকেনা চলছে ঠিকই, প্রচলিত পণ্য নয়, সবটিই মাদকদ্রব্য। সেখানে মূলত গাঁজাই বেশি বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।

গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, জায়গাটিতে মাদক কেনা-বেচা হয়। এজন্য আমরা প্রায় অভিযান চালিয়ে থাকি। যখনই অভিযানে যাই তখন ২০-৩০ জনকে গ্রেপ্তার করি। কিন্তু আবার সেখানে মাদক কেনা-বেচা চলে।

তিনি আরও বলেন, মূলত স্থানটিতে ভাসমান লোকজন অনেক বেশি। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমাদের তালিকায় যারা আছে, তাদের অধিকাংশকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সেখানকার কয়েকজন জানায়, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচা চলে। ২৪ ঘণ্টাই নানা মাদক পাওয়া যায়। প্রতি পুরিয়া গাঁজার দাম ১২০ টাকা। একজন খুচরা বিক্রেতা দিনে কয়েক হাজার টাকার মাদক বিক্রি করেন। যারা বড় চালান নিয়ে আসেন, তারা লাখ টাকার বিক্রি করেন।

সেখানকার এক নারী মাদক বিক্রেতা বলেন, গাঁজা বিক্রি বন্ধ হলে আমাকে এখানে দেখা যেত না। আমার ছেলেমেয়েরাও এগুলো খাওয়া শিখেছে।

‎স্থানীয়রা জানান, আগে থেকেই সেখানে মাদক কেনা-বেচা হয়। কয়েক মাস ধরে কেনা-বেচা অনেক বেড়েছে। পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও ক্রেতা ভেবে ডাকাডাকি করে মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

‎স্থানীয় এক বাসিন্দা ও সরকারি কর্মকর্তা বলেন, আগেও এখানে প্রকাশ্যে মাদক কেনা-বেচা হতো। কয়েক মাস ধরে কেনা-বেচা বেড়েছে। অফিসে যাওয়া-আসার সময় মাদকব্যবসায়ীরা ডাকাডাকি করে। বাধ্য হয়ে এই পথ এড়িয়ে চলি।

মাদকের কেনা-বেচা নিয়ে প্রতিনিয়তই স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হলেও থেমে নেই এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি।