চট্টগ্রামে বন্ধুদের হামলায় যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৪
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের হামলায় মো. রিয়াজ (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে সাতকানিয়া পৌরসভা ও পটিয়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
গ্রেপ্তাররা হলেন মামলার ৪ নম্বর আসামি মো. অনিক হাসান (২৪), ৫ নম্বর আসামি ফরহাদুল ইসলাম (২৩) এবং সন্ধিগ্ধ আসামি কামরুল হাসান (১৭) ও সাইমন উদ্দিন শাকিল (২৫)। তারা প্রত্যেকে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নিহত রিয়াজ সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষিতা মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে নিহত রিয়াজ তার এক বন্ধুর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে গত বৃহস্পতিবার সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের শাহ মজিদিয়া মার্কেটে রিয়াজকে ডেকে নিয়ে রিয়াজের হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ফরহাদ দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহাদাত, জায়েদ, আব্বাস, অনিক ও ফরহাদ গাছের বাটাম দিয়ে রিয়াজকে মারধর করেন। মারধর থেকে বাঁচতে রিয়াজ স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক রতন আচার্যের ফার্মেসিতে আশ্রয় নিলেও রক্ষা পাননি। পরে অভিযুক্তরা তাকে নাছিরের দোকানের সামনে ফেলে রেখে চলে যান।
পরে আহত রিয়াজকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তার বাবাকে খবর দেয় পুলিশ। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) খালি না থাকায় তাকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। আর্থিক সংকটের কারণে শুক্রবার বিকেলে তাকে আবার চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রিয়াজের মা রোজিনা আকতার বলেন, ‘শাহাদাত আমার ছেলেকে ডেকে তার দোকানে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে তারা আমার ছেলেকে বেধড়ক মারধর করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।’