‘আমার ৫ ভাগনে–ভাগনি মারা গেছে, বড় ভাগনির সন্তানও মারা গেছে’—আমিনুল
‘আমার ভাগনে–ভাগনিসহ ছয়জন মারা গেছে। আমার তিন বোন। আমি একমাত্র ভাই। আমার তিন বোনের পাঁচ ছেলে–মেয়ে মারা গেছে। বড় ভাগনিরও বাচ্চা মারা গেছে। ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল। তিনজন বেঁচে আছে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন আমিনুল ইসলাম। রাজধানী ঢাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর শুনে বিমানে কক্সবাজার ছুটে আসেন তিনি। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে তার পরিবারেরই ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্বজনদের হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
শনিবার দুপুর দুইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের আমিনুল ইসলাম জানান, তার তিন বোনের পাঁচ সন্তান এবং বড় ভাগনির এক সন্তান আগুনে মারা গেছে। পরিবারের নয়জন সদস্য বেড়াতে কক্সবাজার এসেছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন বেঁচে আছেন।
আমিনুল বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। গত বৃহস্পতিবার তারা বেড়াতে কক্সবাজার এসেছিল। সকালে যখন আগুন লেগেছিল, তখন তাদের দুজন বাইরে ছিল। এরপর তারাই আমাকে খবর দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে খবর পেয়েই আমি এখানে এসেছি।’
আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন বেলা সোয়া দুইটার দিকে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আরও মরদেহ থাকতে পারে। তখনও উদ্ধার অভিযান চলছিল।
নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন ঢাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ।
এ ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১) ও তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯)।