‘আর ১০টা মিনিট সময় পেলে আমার স্ত্রীও নামতে পারত’—আশিকুল
‘আর ১০টা মিনিট সময় পেলে আমার স্ত্রীও নামতে পারত।’ কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের ছয় সদস্যকে হারানোর আশঙ্কায় এভাবেই আহাজারি করছিলেন আশিকুল ইসলাম। স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের নিয়ে বেড়াতে এসে আগুনের মুখে জানালা ভেঙে লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেও স্ত্রীকে আর সঙ্গে নিয়ে ফিরতে পারেননি তিনি।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উখিয়ার পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার রিসোর্টটিতে আগুন লাগার পর এ ঘটনা ঘটে। আশিকুলের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন দেখতে পেয়ে তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা তাকে ডেকে তোলেন। এরপর পাশের কক্ষে থাকা অন্য স্বজনদের ডাকতে যান তিনি। এর মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশিকুল দ্রুত একটি জানালা ভেঙে সেখান দিয়ে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসেন। তবে তার স্ত্রী বের হতে পারেননি।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন আশিকুল। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ছয়জন হলেন তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, ফারিহা কবির, পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহমদ এবং নাফিস তেহামি জেরিফ।
আশিকুল জানান, ঢাকা থেকে পরিবারের ১০ সদস্যকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার পৌঁছান তারা। এরপর উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। শনিবার তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। তবে এক শ্যালিকার স্বামী ইফতি আগের দিন রাতে চুয়াডাঙ্গায় চলে যাওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টে পরিবারের নয়জন ছিলেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর আশিকুলের পরিবারের আরও দুজন—তার মামা-শ্বশুর মাসুদ ও মাসুদের স্ত্রী মিলা—কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে চিকিৎসকেরা তাদের ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন।