১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১০

নিখোঁজের দুই দিন পর শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় ৫৪ ঘণ্টা পরে একটি খাল থেকে মোহাম্মদ রাইয়ান (১০ মাস) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ঘটনায় নিহত শিশুর খালু আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার দিনই নিহত রাইয়ানের মা রুমানা বেগম আল-আমিনসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় মামলা করেছিলেন। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে গ্রেফতার আল-আমিনের বসতবাড়ি-সংলগ্ন খাল থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মোহাম্মদ রাইয়ান ওই গ্রামের রাসেল খানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার ভোরে বাবার  সঙ্গে ঘুমাচ্ছিলেন শিশু রাইয়ান। একসময় কয়েক সেকেন্ডের জন্য রাসেলের ঘুম ভাঙলে ঘরে তার ভায়রাভাই আল-আমিন দেখতে পেয়েছিলেন। রাইয়ানের মা রুমানা বেগম বাড়ির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন। সকাল ৭টার দিকে রাসেলের ঘুম ভাঙলে তখন নিজের পাশে সন্তানকে দেখতে পায়নি৷ তিনি উঠে ঘরের বাইরে গিয়ে দেখেন স্ত্রী রুমানার সঙ্গেও নেই শিশু রাইয়ান। পরে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও রাইয়ানের কোন সন্ধান পাননি।

পারিবারিক বিরোধের জেরে রাইয়ানের খালু আল-আমিন তাকে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে লুকিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ তোলেন রুমানা বেগম। পরে ঘটনার দিন রাতেই আল-আমিন এবং অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন রুমানা বেগম। এর আগে দুপুরের দিকেই আল-আমিনকে আটক করেছিল পুলিশ।

নিখোঁজের পর শনিবার দুপুরে আল-আমিনের বাড়ির পাশের খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কিছু একটা ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে শিশু রাইয়ানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মরদেহের দুর্গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তখন খালে বস্তাবন্দি সন্দেহজনক কিছু দেখা যাচ্ছে বলে থানায় খবর পাঠায় স্থানীয়রা। আমরা ঘটনাস্থল থেকে বস্তা উদ্ধারের পর ভিতর শিশু রাইয়ানকে শনাক্ত করি। ঘটনাস্থলেই নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।