১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬

বেড়াতে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যা, রহস্য উদঘাটন

মরদেহের প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীকে সাম্পানে তুলে কর্ণফুলী নদীতে নিয়ে যান স্বামী। পরে সহযোগীদের নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি করে লাশ খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনার আড়াই মাস পর হত্যার রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পিবিআই। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত স্বামী রাজা মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত জানায়।

গত ২ আগস্ট চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার কালারপোল এলাকার এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনে শিকলবাহা খাল থেকে বস্তাবন্দি এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ পুলিশ। খালটির বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটসংলগ্ন অংশে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। তার হাত-পা বাঁধা ছিল। পরে পরিচয় শনাক্ত হয়, ওই নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮)।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। বিয়ের সময় রাজা মিয়া নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে বিয়ের কিছুদিন পর জান্নাতুল জানতে পারেন, রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রী রয়েছেন। বিষয়টি জানার পর তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: সীমান্ত থেকে দুই পুলিশকে আটক করে নিয়ে গেল বিএসএফ

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর অন্য পাড়ে ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান রাজা মিয়া। সেখানে আগে থেকেই একটি সাম্পান নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মোসলেম উদ্দিন, রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুকুর আহম্মদ এবং অজ্ঞাতনামা আরেক ব্যক্তি।

পরে তারা জান্নাতুল ও রাজা মিয়াকে নিয়ে সাম্পানে করে কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালের দিকে যান। রাত ৮টার পর সাম্পানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রাজা মিয়া জান্নাতুলের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেন এবং তার মুখ চেপে ধরেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এ সময় সহযোগীরা সাম্পানে থাকা ব্যাগ থেকে রশি ও বস্তা বের করেন। পরে রশি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে জান্নাতুলকে হত্যা করা হয়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি মরদেহ খালে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় জান্নাতুলের মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে রাজা মিয়া ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন।

পিবিআই কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে গত বুধবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মোসলেম উদ্দিন। তাকে ওই দিনই গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর সহযোগী শুকুর আহম্মদকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাজা মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।