১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩৪

সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস, গ্রেপ্তার ৫

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় বিক্ষোভ করেন প্রার্থীরা  © সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। সেই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

২৪২টি পদের বিপরীতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ চাকরিপ্রার্থী। কিন্তু ১১ অক্টোবর পূর্বনির্ধারিত এই পরীক্ষা শুরুর আড়াই ঘণ্টা আগে ফাঁস হওয়ায় সেই পরীক্ষা স্থগিত করে ১৬ অক্টোবর নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৬ অক্টোবর নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপার স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপা হবে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে। আগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপা হয়েছিল মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে।

এর আগে তদন্ত কমিটির সভাপতি মাহফুজুল আলম খান জানিয়েছিলেন, তদন্তের আরও কিছু কাজ বাকি থাকায় দুই দিন বাড়তি সময় চেয়েছেন। সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন সেসব তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ থেকে একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞকে এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত কমিটির সবার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়োগ কমিটি এড়াতে পারে না। কমিটির একজন সদস্যও প্রথম আলোকে বলেছেন, কমিটি পুনর্গঠন করলে পরীক্ষার্থীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যেত। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কমিটির কেউ কেউ সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

এর আগে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে আগের কোনো চক্র জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) কাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি ফরেনসিক দল গঠন করে ঘটনার দিনের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রয়োজনীয় ফরেনসিক প্রতিবেদন তৈরির কাজও চলছে।

তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না মন্ত্রণালয়। নিয়োগ কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি বাইরে থেকে যারা প্রশ্নপত্র ছাপানো বা ফটোকপি করে বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানোর কাজে যুক্ত ছিলেন, তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাকরি পাওয়ার আশায় এবং নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে অনেক পরীক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছিলেন। পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তারা কষ্ট পেয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।

আমিনুল হক বলেন, ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একইসঙ্গে নতুন পরীক্ষার তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে কমিটি আরও সময় চেয়েছে। আগামী রোববার পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছে।