০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:১৭

তাজমিনের হাতেও ছিল আইফোন, কললিস্ট ধরে উঠে এল নতুন তথ্য

আটক অটোরিকশা চালক ও তাজমিন   © টিডিসি ছবি

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তার ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার এবং মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও তারা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক মো. সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিমও আইফোনের কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এবার তাজমিন হত্যার তদন্তেও আইফোন ও এর কললিস্ট গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে। আটক অটোরিকশাচালককে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাজমিনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে আরও একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার তাজমিন হত্যা মামলার মূল আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া আইফোনের তথ্য, কললিস্ট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গ্রেপ্তার সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তাজমিন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে সে বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, ওই দিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়েছিল। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে আবার কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশ জানায়, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে তাজমিন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। পরে হোটেলের আশপাশের বিভিন্ন ক্যামেরার ফুটেজে মোবাইল ফোন হাতে ও কাঁধে ভ্যানিটি ব্যাগ ঝুলিয়ে তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। একপর্যায়ে সে সড়কের দিকে চলে যায়। এরপর তার গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

তাজমিনের আইফোন উদ্ধার হওয়ায় তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিল, কারও সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো কি না এবং নিখোঁজ হওয়ার আগে ও পরে তার চলাচল সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে ঠিক কী তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বয়স ১৩ বছর। সে যশোর সদর উপজেলার চড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। তার বাবা একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। পরিবারের সঙ্গে নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় বসবাস করত তাজমিন।