মাদক সেবনের অভিযোগে আটক পুলিশ কর্মকর্তা থানা থেকে পলাতক
বরিশালে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় আটক এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এবার থানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ডোপ টেস্টের প্রস্তুতিকালে বিমানবন্দর থানা থেকে পালিয়ে যান পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন। পরে রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চলছে।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, এএসআই দেলোয়ারের ডোপ টেস্ট করার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সুযোগ বুঝে তিনি থানা থেকে পালিয়ে যান। তাকে উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে এদিন ভোরে বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে দেলোয়ারসহ চারজনকে আটক করা হয়।
বরিশাল অঞ্চলের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ওই এলাকার একটি বাড়িতে মাদক কেনাবেচা, সেবন ও আড্ডা চলে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অভিযান চালানো হয়। প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে এক নারীসহ চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটক তিনজন হলেন— মো. মিরাজুল ইসলাম (৩৪), নাহিদ হাসান (২৬) ও ফাতেমা আক্তার নুরজাত (৩০)। তাদের মধ্যে মিরাজুল ওই এলাকার বাসিন্দা, নাহিদ বাগেরহাটের ফকিরহাটের বাসিন্দা এবং ফাতেমা বরিশাল নগরের পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বরিশাল অঞ্চলের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় দেলোয়ার হোসেন টিনের ওপর দিয়ে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে তাকে আটক করে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিমানবন্দর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। থানার এক পরিদর্শক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
পুলিশের হেফাজতে যাওয়ার পর দেলোয়ারের থানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিনি কীভাবে থানা থেকে বেরিয়ে গেছেন এবং এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।