০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১১

রংপুরে চার খুনের ঘটনায় আসামিদের ডিএনএ টেস্টে যা পেল পুলিশ

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও পরিবার  © সংগৃহীত

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামির ডিএনএ পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা খেজুর, কামড়ে খাওয়া শসা ও সিগারেটের অংশবিশেষের ডিএনএর সঙ্গে গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএর শতভাগ মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকায় অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরীক্ষাগার থেকে পাঠানো ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মামলাটি তদারকির দায়িত্বে থাকা রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

এ ঘটনায় পরে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ ও সিআইডি। এর মধ্যে সন্দেহজনক কিছু নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে খেজুর, কামড়ে খাওয়া শসার অংশ এবং সিগারেটের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল। এসব আলামত ও গ্রেফতার দুই আসামির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার পর শতভাগ মিল পাওয়া গেছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘সিআইডির প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। আমরা এখন নিশ্চিত হয়েছি হত্যাকাণ্ডের সময় আসামিরা যে খেজুর, শসা ও সিগারেট খেয়েছিল; ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত সেসব আলামত গ্রেফতার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের ব্যবহৃত বলে ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে। এটা এখন শতভাগ সত্য।’

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস—দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলেও দাবি পুলিশের।

ডিবি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে দুই আসামির ঘটনাস্থলে থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে এ পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে পুলিশ।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীদের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ি দিয়ে উঠে তারা গণপতিদের বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন।

ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, দ্বিতীয় তলায় আলাদা কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন গণপতি, তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও তাদের দুই সন্তান। ভোররাতে শব্দ পেয়ে গণপতি তৃতীয় তলার খোলা ছাদে গেলে তাকে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পরে তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে তাদের সেখানেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় তলায় ঘুমন্ত অবস্থায় ১২ বছরের ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানায় ডিবি।

পুলিশের দাবি, চারজনকে হত্যার পরও কিছু সময় বাড়িতে অবস্থান করেন দুই আসামি। এ সময় তারা গোসল করেন, খেজুর ও শসা খান এবং তিনটি আলমারি খুলে কাপড়সহ তিনটি কক্ষের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করেন। পরে তারা ১৫ হাজার টাকা ও ছয়-সাত ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যান বলে দাবি ডিবির।