সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, ৪ মাসের শিশু রেখে চলে গেলেন নার্স বীথি
সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগের পর দীর্ঘ চার মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা গেলেন নার্স বীথি আক্তার। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বীথি ফরিদপুর ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি সম্পন্ন করেছিলেন। গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. তামান্না আক্তারের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অপারেশনের সময় বীথির পেটের ভেতর গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। এরপর থেকেই তীব্র পেটব্যথাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। তখনই পেটের ভেতর গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন পেটের ভেতর গজ থাকায় সেখানে ইনফেকশন দেখা দেয়। এতে তার পেটের নাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তার বাইপাস সার্জারিও করতে হয়। একের পর এক জটিলতায় ধীরে ধীরে আরও দুর্বল হয়ে পড়েন বীথি।
স্বজনরা জানান, সিজারের আগে বীথির ওজন ছিল প্রায় ৬১ কেজি। অসুস্থতার কারণে চার মাসের মধ্যে তার ওজন কমে দাঁড়ায় ৩৯ কেজিতে। গুরুতর অসুস্থ থাকায় নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা বুকের দুধ খাওয়ানোর সুযোগটুকুও পাননি তিনি।
সর্বশেষ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন বীথি। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ৪ অক্টোবর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
বীথির স্বামী রাকিবুল ইসলামসহ স্বজনরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।