০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১৬

১২ দিনের ব্যবধানে ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার থানাটিতে

ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়া সেই চার পুলিশ সদস্য   © সংগৃহীত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর ১২ দিনের ব্যবধানে চার পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও একজন কনস্টেবল রয়েছেন।

গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পর এএসআই অতনু বণিককে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগের দিন সোমবার (৫ অক্টোবর) একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে প্রত্যাহার করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই। সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তে রানীগাঁও বাজারে গেলে স্থানীয় এক ব্যক্তি তার বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

এর এক দিন পরই এএসআই অতনু বণিককেও প্রত্যাহার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইয়াবা দিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর এসআই মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তার মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়ার (৪৫) সঙ্গে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদন্ত শুরু হয়। একই সঙ্গে এসআই মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে চুনারুঘাট থানার চার পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন অভিযোগের পর প্রত্যাহারের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘুষ গ্রহণ, মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা এবং পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই এখন পর্যন্ত তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষে নির্ধারিত হবে।