সেই কলেজ ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে পড়ে সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার মো. নাজমুল হকের মৃত্যু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ভর্তির ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ। তবে পরিবারের দাবি, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নাজমুলকে হেনস্তা করা হয়েছিল এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে আদালত ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন নাজমুল। পরে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নাজমুল নগরীর কাশীপুর এলাকার এনামুল হকের ছেলে। স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় তিন বছর আগে তিনি বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে ক্যাশিয়ার পদে যোগ দেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ভর্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল বলে পরিবারের দাবি।
নাজমুলের নিকটাত্মীয় সিরাজুল ইসলাম বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে নাজমুলের বাবা এনামুল হক কয়েকবার কলেজে যান। তার অভিযোগ, কলেজের অধ্যক্ষ নাজমুলকে তার বাবার সামনে একাধিকবার শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। সোমবার তার কাছ থেকে অফিসের সব চাবি নিয়ে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার নাজমুলকে কলেজে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। পরে আদালত ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা।
সিরাজুলের দাবি, নাজমুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। তিনি কীভাবে আদালত ভবনে গেলেন, সেটিও পরিবারের কাছে স্পষ্ট নয়। তাদের ধারণা, নাজমুলকে পরিকল্পিতভাবে ভবন থেকে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তবে সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, শিক্ষার্থী ভর্তির টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা না দেওয়ায় নাজমুলের বিরুদ্ধে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে অডিট আপত্তিও রয়েছে। এ কারণে তাকে কলেজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা হয় এবং সোমবার তার কাছ থেকে অফিসের চাবি নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
অধ্যক্ষ জানান, মঙ্গলবার সকালে নাজমুল কলেজে এসেছিলেন। পরে কখন তিনি বের হয়ে যান, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। দুপুরের পর আদালত ভবন থেকে লাফ দিয়ে তার আত্মহত্যার খবর পান তারা। এর আগে কলেজের পেছনের গেটসংলগ্ন ফকিরবাড়ি রোডের একটি সাততলা ভবনে উঠতে চেয়েছিলেন নাজমুল। তবে ভবনটির মালিক তাকে সেখানে উঠতে দেননি বলেও জানান তিনি।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নাজমুলের বিরুদ্ধে কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কথা পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। নাজমুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।