ছেলেকে হত্যার ৫০ দিনের মাথায় বাবাকেও গুলি করে হত্যা, জিডি করেও বাঁচতে পারলেন না
ছেলেকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ৫০ দিনের মাথায় গুলিতে প্রাণ গেল বাবারও। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঘটনার মাত্র ১৫ দিন আগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন খুলনার রূপসা উপজেলার আক্তার ঢালী। সেখানে মামলা তুলে নিতে আসামিদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পাননি তিনি। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আক্তার।
গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে (২৫) কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় নিহতের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রূপসা থানায় জিডি করেন আক্তার ঢালী। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে সেনরেবাজার এলাকায় মামলার আসামি মুনজিল শেখ, মুরাদ শেখ, মাসুদ মোল্যা ও রোপা মোল্যা তাকে ডেকে নিয়ে যান। পরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জিডিতে আক্তার ঢালী লিখেছেন, ‘এর আগে একই আসামিরা আমার ছেলে জয় ঢালীকে দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। ওই মামলার আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে এলাকায় এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমিসহ আমার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। জানমালের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দিতাছে। আসামিদের এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আমি ও আমার পরিবারবর্গ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি বিধায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য জিডি করছি।’
এর আগে একই জিডিতে তিনি লিখেছেন, ‘এরপর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন তারা। এমনকি জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ অবস্থায় আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে আসি।’
রূপসা থানা পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করার দুই দিন পর জিডিটি নথিভুক্ত করা হয়। জিডি নম্বর-১৪১২, তারিখ ২৩/০৯/২৬। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার মাগরিবের নামাজ শেষে মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানের বেঞ্চে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে বেঞ্চের পাশে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে স্থানীয়রা আক্তার ঢালীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে ওসি আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের গুলিতে আক্তার ঢালী নিহত হন। কী কারণে এবং কারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’