০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮

গুলশানে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চার গুদাম সিলগালা

এনবিআরের অভিযান  © সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানে অনুমোদনের বাইরে দুটি গুদামে শুল্কমুক্ত পণ্য মজুতের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ওয়্যারহাউস অনুমোদিত হলেও বাকি দুটি অনুমোদিত তালিকার বাইরে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

গুলশান-১-এর ১৩১ নম্বর সড়কের ৬০/সি নম্বর প্লটে অবস্থিত ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ওয়্যারহাউসে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় অভিযান শুরু হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে এ অভিযান। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত দুটি ওয়্যারহাউসের পাশাপাশি আরও দুটি ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়া যায়। পরে চারটি ওয়্যারহাউসই সিলগালা করা হয়।

এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের অনুমোদিত বা ঘোষিত ওয়্যারহাউসের সংখ্যা দুটি। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির মোট চারটি ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি ওয়্যারহাউস অনুমোদিত তালিকার বাইরে বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের বাইরে কীভাবে রাখা হয়েছে এবং সেখান থেকে কোনো পণ্য স্থানান্তর বা অপসারণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানায়, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য নির্ধারিত ও অনুমোদিত স্থানে সংরক্ষণ করার বিধান রয়েছে। অনুমোদিত ওয়্যারহাউজের বাইরে এসব পণ্য পাওয়া গেলে তার বৈধতা, মজুতের হিসাব এবং পণ্য স্থানান্তরের অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন। এসব কারণেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়্যারহাউজগুলো সিলগালা রাখা হয়েছে।

মেসার্স টস বন্ড লিমিটেডের বিরুদ্ধে বিশেষ সুবিধায় কূটনীতিকদের নামে মদ এনে বিক্রি করার অভিযোগ বেশ পুরোনো। ২০২৩ সালে ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডের আওতায় মদ এনে সরকারের ২৪৯ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির প্রমাণ পেয়েছিল এনবিআরের শুল্ক বিভাগ।