২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৩

লাইসেন্স-চিকিৎসক-নার্স কোনটিই নেই, রিপোর্ট করছিলেন ডিগ্রিহীন ম্যানেজার, ক্লিনিক সিলগালা

‘স্বাগতা ক্লিনিক’-এ সিভিল সার্জনের অভিযান  © টিডিসি

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় ‘স্বাগতা ক্লিনিক’-এ অভিযান চালিয়ে গুরুতর অনিয়ম পেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানে গিয়ে ক্লিনিকটির প্যাথলজি বিভাগে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই ম্যানেজার অরুণ কুমার মন্ডলকে রোগীদের বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করতে দেখা যায়। এ ছাড়া ক্লিনিকটির হালনাগাদ কোনো বৈধ লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি।

অভিযানে ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও প্যাথলজি বিভাগ অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের জীবনঝুঁকিতে ফেলা ও প্রতারণার অভিযোগে ক্লিনিকের ম্যানেজার অরুণ কুমার মন্ডলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন।

আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ইসমত জাহান সুমনা এবং প্রধান সহকারী আশিক নেওয়াজ।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সরেজমিনে ক্লিনিকটি পরিদর্শনের সময় হালনাগাদ কোনো বৈধ লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। এমনকি ক্লিনিকটিতে কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কিংবা ডিপ্লোমাধারী নার্সও ছিলেন না। অভিযানের সময় প্যাথলজি বিভাগে গিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা দেখতে পান, রোগীদের রক্তসহ বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরির কাজ করছেন ক্লিনিকটির ম্যানেজার অরুণ কুমার মন্ডল। তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি, প্রশিক্ষণ বা সনদ নেই। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই কোনো সনদ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।

শুধু প্যাথলজি বিভাগেই নয়, ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটারেও গুরুতর অনিয়মের চিত্র পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রয়োজনীয় নির্ধারিত পরিমাপ ও অ্যানাস্থেসিয়ার যন্ত্রপাতি ছাড়াই সেখানে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছিল। নিয়ম অনুযায়ী সহকারী চিকিৎসকের পরিবর্তে নন-মেডিকেল কর্মচারীদের দিয়েই অপারেশনের কাজ করানোর অভিযোগ পাওয়া যায়।

অভিযানে আরও দেখা যায়, অস্ত্রোপচারের পর নবজাতক কিংবা সংকটাপন্ন রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পোস্ট-অপারেটিভ ব্যবস্থাও নেই। ওটি রেজিস্টারে কোনো তথ্য হালনাগাদ ছিল না। এমনকি রোগীদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতেও চিকিৎসকের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, রোগীদের চরম জীবনঝুঁকির মধ্যে ফেলার মতো অনিয়ম পাওয়ায় ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটার ও প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা করা হয়েছে। এখন থেকে এখানে শুধু বহির্বিভাগে (আউটডোর) সাধারণ রোগী দেখা যাবে। কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, ক্লিনিকটির ম্যানেজার অরুণ কুমার মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের জন্য পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।