২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রেলওয়ে স্টেশন ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর  © টিডিসি সম্পাদিত

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর ও হেনস্তার ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে অগ্নিসংযোগ ও রেলপথ অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সাথে দেশের সকল রুটের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। পরে সোমাবার সকাল থেকে পুনরায় রেল চলাচল শুরু হয়। 

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে প্রথমে ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সাথে রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মী (আনসার সদস্য) ও কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়। একপর্যায়ে দায়িত্বরত কর্মচারীরা ওই শিক্ষার্থীকে মারধর শুরু করেন।

এ সময় ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এগিয়ে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী আইয়ুব। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় সেখানে উপস্থিত আনসার সদস্য ও রেলওয়ে কর্মচারীরা সম্মিলিতভাবে আইয়ুবের ওপর চড়াও হন এবং তাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে আহত করেন। গুরুতর শারীরিক আঘাত পেয়ে আইয়ুব ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মুখ থুবড়ে পড়ে যান।

সহপাঠীকে আশঙ্কাজনক ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঘটনার জের ধরে আনুমানিক রাত ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর চালান এবং বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশনে অগ্নিসংযোগ করেন। একই সাথে তারা রেললাইনের ওপর অবস্থান নিয়ে রেলপথ অবরোধ করেন।

অবরোধ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফলে রাজশাহী থেকে সকল গন্তব্যে ট্রেন চলাচল স্থগিত রয়েছে। এতে বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে রাজশাহীর সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো সাধারণ যাত্রী।

শিক্ষার্থীরা জানান, জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। রেলের কর্মচারীরা তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে মারধর করেছেন। আমি নিউরোসার্জনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।

তিনি আরও বলেন, তার চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছি।

এদিকে এ ঘটনায় রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে পশ্চিমা রেলওয়ের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিম্নোক্ত আরএনবি সদস্যগণকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। পরবর্তী নির্দে না দেওয়া পর্যন্ত তারা কমান্ড্যান্ট/সদরের নিকট দৈনিক হাজিরা দেবেন।

বরখাস্তরা হলেন মো. আরিফ হোসেন (স্টাফ নং-সি-৯৮৯), মো. রোকন উদ্দীন (স্টাফ নং-সি-৮৮৩), মো. শফিকুল ইসলাম (স্টাফ নং-সি-১৩২১) ও মো. শাহাদত হোসেন (স্টাফ নং-সি-৬০০)। 

এ বিষয়ে রাজশাহী রেলওয়ে থানার (জিআরপি) বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আজ সকাল ৬টা ২০ মিনিট থেকে রেল যোগাযোগ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ২টি ট্রেন ছেড়ে যায়।