২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৪১

অপ্রতিম হত্যা, এখন পর্যন্ত যা যা ঘটল

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম  © ফাইল ফটো

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গলে বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) লাশ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর গতকাল শনিবার বেলা একটায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় স্তব্ধ পুরো দেশ। শোক নেমে এসেছে পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে। অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। আজ রবিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ হত্যায় জড়িত থাকা সন্দেহে চারজনকে আটকের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। আটকরা হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), কামরুল হাসান (১৫), মোজাম্মেল হোসেনে ফাহাদ (১৬) ও মো. সিয়াম (১৯)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটিও। অপ্রতিম কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত সে। তার বাবা ব্যবসায়ী।

যেভাবে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম
শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। রাত পর্যন্ত অপ্রতিম বাসায় না ফেরায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পাশাপাশি মা তার ছেলেকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। পরে ফেসবুকে অপ্রতিমের ছবি দিয়ে তার সন্ধান চায় ‘মুন অ্যালার্ট’ (মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন)। নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে গত ১৩ জানুয়ারি ‘ফ্রি হেল্প লাইন’ (১৩২১৯) চালু করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ উদ্ধারকাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার ও দ্রুত সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে প্রথমবারের মতো চালু হয় জরুরি সতর্কতা-ব্যবস্থা ‘মুন অ্যালার্ট’।

অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগমের স্ট্যাটাস ও মুন অ্যালার্টের ফটোকার্ডের পর ফেসবুকে তার নিখোঁজের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবহারকারীরা অপ্রতিমের মায়ের স্ট্যাটাসের পাশাপাশি ফটোকার্ডটি ব্যবহার করে তার সন্ধান চান। এদিকে, অপ্রতিম বাসায় না ফেরায় তার সঙ্গে থাকা মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে তার অবস্থান শনাক্ত করা যায়। এর পর থেকে তার সঙ্গে থাকা ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।

যেভাবে জঙ্গলে পাওয়া গেল অপ্রতিমের লাশ
অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ প্রথম দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী। শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার (ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশে) জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রথমে ওই শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বেলা একটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় জিলানী লাশ পড়ে থাকতে দেখার বর্ণনা দেন।

পেশায় শ্রমিক জিলানী বলেন, ‘আমরা কাজ করার জন্য আসছিলাম। কাজের জন্য বাঁশ লাগব। তাই বাঁশ কাটতে এদিক দিয়ে যাইতেছিলাম। যাওয়ার সময় ভাতিজা কইছে, “কাকা, একটা বাচ্চা পড়ে আছে।” পরে এখানে আইসা দেখি, মাথার দিকে রক্ত রক্ত। আমরা ভয় পাইয়া গেছি। কাজ (বাঁশ কাটা) ফালাইয়া দিয়া চইলা গেছি।’

তখন জিলানীর কাছে সময় দেখার মতো কোনো মুঠোফোন বা ঘড়ি ছিল না বলে জানান। তবে সূর্যের অবস্থান দেখে তাঁর ধারণা, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে তিনি ওই শিশুকে দেখতে পেয়েছেন।

জঙ্গল থেকে বেরিয়ে সড়কের ওঠার পর মামুন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে জিলানীর দেখা হয়। ওই সময় তাঁর কাছ থেকে জানতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সন্তান নিখোঁজ। এরপর মামুন তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।

জিলানী বলেন, ‘মামুন ভাই কইল, ম্যাডামের বাচ্চা হারাইছে। (তখন আমি বলি,) ওইখানে একটা বাচ্চা পড়ে রইছে। পরে মামুন ভাই আমারে নিয়ে আবার এখানে আসে। এরপর দেখি এইটাই সেই বাচ্চা।’

মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ পুরো দেশ
শনিবার দুপুরের পর অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে শোক জানিয়ে অনেকেই স্ট্যাটাস দেন। কেউ কেউ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অপ্রতিমের মা–বাবার বক্তব্য উদ্ধৃত করেও স্ট্যাটাস দেন। তারা ছোট্ট এই শিশুকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানান। অন্যদিকে, তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ যা পেয়েছিল
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের মোবাইল ফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।  তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মায়ের সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন এমপি মনিরুল হক চৌধুরীও
শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক। পরে নিহতের বাসায় গিয়ে তার মা-বাবাকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে নিজের এলাকায় ঘটে যাওয়া এমন নির্মম ঘটনার জন্য লজ্জা ও দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

এমপি মনিরুল হক চৌধুরী তাদের বাসায় সমবেদনা জানাতে গেলে অপ্রতিমের মা আহাজারি করে বলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই?’ 

এমপি মনিরুল হক চৌধুরীও কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।’

এ সময় এমপি মনিরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ এলাকার এমপি হিসেবে লজ্জিত ও দুঃখিত। একজন মাসুম বাচ্চাকে রক্ষা করতে পারলাম না। আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো। ৯০ দিনের মধ্যে এ ঘটনার বিচার শেষ করতে হবে।’

বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা কষ্টের, আজ বুঝতে পারছি
‘আমার ছেলের বয়স যখন দুই বছর, তখন সে এই এলাকায় এসেছে। আমার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অপ্রতিম আপনাদের কাছেই বড় হয়েছে। আপনাদের আদর-স্নেহ পেয়েছে, আপনাদের বাসায় খেয়েছে। তাই আপনাদের কাছেই অপ্রতিমকে সমাহিত করছি।’ ছেলে অপ্রতিমকে হারানোর বেদনা নিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার। আজ রবিবার কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে ছেলের দ্বিতীয় জানাজার আগে তিনি এসব কথা বলেন।

চিরনিদ্রায় অপ্রতিম
আজ রবিবার সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতিতে তাদের বাসার পাশের কবরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়। এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা ও দাফনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অপ্রতিমের সহপাঠী, স্বজন ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। পরে কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে ছেলের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ছেলের দাফনের পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, আমার আর নতুন করে কিছু বলার নেই। আমি কেবল আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার দেখতে চাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এখনো পর্যন্ত আমার পূর্ণ আস্থা আছে।

তিনি বলেন, সামান্য একটা আইফোনের জন্য আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে—এ কথা আমার মন কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না। আমার মাত্র ১৩ বছর বয়সী নিষ্পাপ ছেলেটা তো কোনো অপরাধ করেনি। তবে কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো? এই মুহূর্তে আমি শুধু ঘাতকদের কঠোর বিচার চাই।

জড়িতরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সবাইকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের প্রশংসা করতে হবে এ কারণে যে তারা হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক সব তথ্য-উপাত্ত দ্রুততম সময়ে উদ্ধার করেছে।

পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মতো অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন যাতে দ্রুত দেওয়া যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আজ রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে। এর বিভিন্ন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজের সব সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে।

ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, দাবি পুলিশের
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। আজ রবিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সিসিটিভি ভিডিও দেখে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) নামে একজনকে প্রথমে আটক করা হয়। তিনি কুমিল্লা সিটি কলেজ একাদশ শ্রেণিতে পড়তেন। ২০২৫ সালে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি ড্রপআউট হয়ে যান। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই কিশোরকে (১৫) আটক করে পুলিশ। তারা ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ছাড়া আবদাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়ামকে (১৯) হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

আসামিরা মাথায় আঘাত করে অপ্রতিমকে হত্যা করে বর্ণনা করে পুলিশ সুপার বলেন, তাদের মধ্যে অসম বন্ধুত্ব ছিল। অর্থাৎ অপ্রতিম ক্লাস সেভেনে পড়ত, কিন্তু যারা তার বন্ধু তারা তার সহপাঠী ছিল না। এরা বয়সে তার চেয়ে বড় ছিল এবং বখাটে ছিল।

তিনি বলেন, আমরা ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছি। মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। এবং যে আইফোনটির কারণে হত্যাকাণ্ড, সেই আইফোনটিও আমরা আসামি তুহিনের দেখানো মতে তার বাসা থেকে উদ্ধার করেছি।

অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতে হত্যার উদ্দেশ্যে তুহিনই প্রথমে তার মাথায় আঘাত করেন, পরে আরও দুই কিশোর তাকে অনুসরণ করে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ধস্তাধস্তি, বাধা দেয় অপ্রতিম
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “ঘটনার দিন (শুক্রবার) বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে শালবন নামক স্থানে চারপাশে পাহাড় ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতিমের আইফোনটি তিনজন মিলে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অপ্রতিম তাতে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

“এর মধ্যে প্রথমে তুহিন, পরবর্তীতে সঙ্গে থাকা দুই কিশোর বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। একপর্যায়ে অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে তিনজন। এরপর তুহিন অপ্রতিমের আইফোনটি নেয় এবং বাকি দুই কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।”

এ ছাড়া সিয়াম নামে আরেক কলেজ ছাত্রকে আটকের তথ্য দিয়ে আনিসুজ্জামান বলেন, “তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুতই পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

বিচারের দাবিতে দেড় ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ
অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ রবিবার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা শেষে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় আসেন।

এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাড়ি বিশ্বরোডের নন্দনপুর এলাকায় মহাসড়কের উভয়মুখী লেনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মহাসড়ক ছাড়েন তারা। অবরোধ ও বিক্ষোভের সময় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে হত্যাকারী খুনি ও খুনির সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দুপুরে মানবন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।