১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:২১

অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার, আটক ৩

অপ্রতীম  © সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশায়েক শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ (১৩) মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পরে তার ব্যবহৃত আইফোন মোবাইলটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এপর্যন্ত ৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির বর্তমান ইনচার্জ মহিবুল আলম ভুঁইয়া এবিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন।

সহকারী পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতীমের নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। দুই জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে রাত থেকেই অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে নিখোঁজ শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে না পারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে স্থানীয়দের মাধ্যমে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির বর্তমান ইনচার্জ বা আইসি (IC)  মহিবুল আলম ভুঁইয়ার সঙ্গে কথোপকথনে জানা যায়, জিডির পর রাত থেকেই পুলিশ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালান। তবে নিখোঁজ অপ্রতিমকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘জিডির উপর বেস করে কালকে রাতে আমাদের সার্কেল স্যারসহ আমরা অভিযান করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরাও ছিল, প্রক্টরও ছিল। আমরা অভিযান বিভিন্ন জায়গায় করেছিলাম, করছি। করার পরে আমরা চেষ্টা করছি তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ করার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাই হোক, এই পর্যন্ত তিনজন গ্রেপ্তার আছে। এবং ওনার মোবাইল উদ্ধার আছে।’

অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তবে তিনি জানান, নিখোঁজ শিশুটির অবস্থান ওই অঞ্চলে ছিল বলে পুলিশ সেখানে বেশি অভিযান চালিয়েছে।

তিনি বলেন, গতকালের লোকেশনটা ছিল এই অঞ্চলে, এইজন্য আমরা এই অঞ্চলে বেশি অভিযান করেছি।

তবে নির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা গেলে অপ্রতিমকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হতো কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ফোনের অবস্থান হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে। বিভিন্ন টিম এ নিয়ে কাজ করেছে বলেও জানান তিনি।

আইফোনের লোকেশন শনাক্ত করতে সময় লাগার বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এলআইসি-তে কাজ করে আমাদের সার্ভিস রিপেয়ার আসতে হয়, মেসেজটা আসতে হয়। সময় লাগে, একটু সময় দিতে হয়।’

তবে প্রশ্নকারী সাংবাদিক জানতে চান, কয়েক ঘণ্টার প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার কথা বলা হলেও অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পুরো রাত পার হয়ে যাওয়ার পরও কেন তাকে বা তার অবস্থান খুঁজে পাওয়া গেল না?

জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এইটা এখন আমি বলতে পারি না। আমাদের ঊর্ধ্বতন অফিসারসহ সারারাতও কাজ করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ আমরা কাজ করছি। জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন আমরা কতটুকু ঘুরছি বা কি করছি না করছি। তথ্য-উপাত্ত যে নেইনি, তা কিন্তু না।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা জানান, অপ্রতিমের আইফোনটিও উদ্ধার হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশের অভিযান, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং অনুসন্ধানের কার্যকারিতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নিখোঁজের পর দ্রুত অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম কতটা কার্যকর ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার দাবি উঠেছে।