১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি সম্পাদিত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খানজাহান আলী হল (খাজা হল) সংলগ্ন একটি বাড়িতে আজমল (৩৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চুরির অভিযোগে ওই যুবককে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ বলছে, নিহত আজমল নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আজমল হরিণটানা এলাকার কুতুবের ছেলে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয়ে কয়েকজন যুবক আজমলকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আজমল আহত হয়েছেন। 

স্থানীয়রা জানান, ভবনের চতুর্থ তলায় কয়েকজন মিলে আজমলকে মারধর করছিলেন। পরে তাকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই সময় আজমল পানি চাইলে স্থানীয়রা তাকে পানি দেন। পরে যারা তাকে মারধর করছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন, তারাই অ্যাম্বুলেন্সে করে আজমলকে হাসপাতালে নিয়ে যান। আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও একপাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাড়ির মালিক জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে পাশের ভবন থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তিনি বাইরে বের হন। এ সময় পাশের ভবনের চতুর্থ তলায় একজনকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখেন। পরে ওই ব্যক্তিকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে, অর্থাৎ খাজা হলের গেটের বাইরে একটি বাড়িতে ঘটেছে। বাড়িটি ছাত্রাবাস হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী থাকেন।

এ বিষয়ে হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) টিপু সুলতান বলেন, “নিহত শিক্ষার্থী আজমলের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।”