১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬

৯ ঘণ্টায় রাজধানীতে ১৪ ককটেল বিস্ফোরণ, থানার সামনে বাসে আগুন

রাজধানীর মহাখালী ও ডিএমপির লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

ছুটির দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর প্রায় ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অন্তত ১৪টি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণে ইবাদুর রহমান (২৬) নামে এক রিকশাচালক আহত হয়েছেন। একই রাতে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মালিবাগ, মহাখালী, আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার, মগবাজার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের সামনের এলাকায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে কারা এসব ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগ রেলগেটসংলগ্ন সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের পাশের সড়কে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এরপর সন্ধ্যায় মহাখালী ও আগারগাঁও এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপর থেকে একটি হাতবোমা নিচে ফেলা হলে সেটি বিস্ফোরিত হয় বলে জানান বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তারেক। তিনি বলেন, ‘কেউ উপর থেকে ককটেল নিচে মেরেছে। আমাদের টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে।’

প্রায় একই সময়ে আগারগাঁওয়ের বেতার ভবনের সামনে একটি হাতবোমা বিস্ফোরণের তথ্য দেন শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘একটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়েছি। পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে, বিস্তারিত তথ্য এখনো পাইনি।’

এরপর সন্ধ্যার পর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। রাত পৌনে ৮টার দিকে থানার প্রধান ফটকের সামনে পরপর বিস্ফোরণের ঘটনায় ইবাদুর রহমান আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইবাদুরের কোমরের পেছনে ককটেলের স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে।

ইবাদুর রহমান কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার সাদুল্লা গ্রামের লুৎফুর রহমানের ছেলে। তিনি রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় থাকেন। যাত্রাবাড়ী থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. হাসানুর বলেন, “একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পেয়েছি, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।” তবে কোন দিক থেকে কে বা কারা হাতবোমা ছুড়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

এরপর রাত ৮টার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালি থানার ওসি মো. রবিউল বলেন, “একটি বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। তবে সেখানে কেউ হতাহত হয়নি।”

রাত সোয়া ৯টার দিকে মগবাজার মোড় জামে মসজিদের পাশে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হাতিরঝিল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রাত ১১টার দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রধান ফটকের বিপরীত পাশের সড়কে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে, যেটি হাতিরঝিল থানা এলাকায় পড়েছে।’ এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানায়।

এদিকে এসব বিস্ফোরণের মধ্যে রাত ১০টা ১৪ মিনিটের দিকে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। বাসটি মিরপুর লিংক পরিবহনের বলে জানা গেছে। তবে কে বা কারা বাসটিতে আগুন দিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মো. শাহজাহান ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার আট মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কাফরুল থানার ডিউটি অফিসারও জানান, বাসটিতে কীভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর যেসব স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের আগে গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল করেছিলেন বলে সূত্রের বরাতে জানা গেছে। এ সময় তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন বলে ওই সূত্রের দাবি। একপর্যায়ে গুলশান ও আশপাশের এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয় বলে জানানো হয়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে সূত্র জানিয়েছে।

গুলশানের ওই মিছিলের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা হয়। কেউ কেউ ঘটনাটিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও ওসিকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।