ঢাবির সাবেক হল জিএসকে হাসপাতালে ফেলে যান দুই ব্যক্তি, রাতে মৃত্যু—কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
গাজীপুরের টঙ্গীতে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে রেখে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জসিমউদ্দীন হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মনির উদ্দিনের (৬৫) মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেলে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় মনির উদ্দিনকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে তাকে রেখে ওই দুই ব্যক্তি চলে যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।
তবে মনির উদ্দিন কীভাবে টঙ্গীতে এলেন, অসুস্থ অবস্থায় তাকে কারা হাসপাতালে নিয়ে এলেন এবং অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি কোথায় ছিলেন এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার হাসপাতালে পৌঁছানো ও রেখে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
মরদেহের সঙ্গে হাতিয়া অটো রাইস মিলের নামে ঢাকার কারওয়ান বাজার শাখা উত্তরা ব্যাংকে দেড় লাখ টাকা জমা দেওয়ার একটি স্লিপ পাওয়া যায়। ওই স্লিপের সূত্র ধরে পুলিশ তার পরিচয় শনাক্ত করে। পরে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ হেফাজতে নেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
মনির উদ্দিনের শ্যালক মো. শাহাবুদ্দিন রাশেদ বলেন, ‘কে বা কারা আমার দুলাভাইকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে টঙ্গীর হাসপাতালে এনে রেখে গেছেন, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মনির উদ্দিন স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যেতে পারেন বলে তারা ধারণা করছেন। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাফসা আক্তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘পুলিশের রিকুইজিশন ছাড়া এ বিষয়ে বলা সম্ভব নয়।’
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, মনির উদ্দিন স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। পরিবারের আবেদনের পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। তার ময়নাতদন্ত করা হয়নি। নিহতের মেয়ে চিকিৎসক হওয়ায় তিনি মরদেহ পরীক্ষা করে স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলে জানান ওসি।
মনির উদ্দিন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকৈলাশ গ্রামের মৃত শফিউল আলমের ছেলে। তিনি ঢাকার কাঁঠালবাগানে বসবাস করতেন। পাশাপাশি ‘হাতিয়া অটো রাইস মিলস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে কানাডার নাগরিক এবং মেয়ে বাংলাদেশে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত।
জানা গেছে, ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসিমউদ্দীন হলের নির্বাচনে জাসদ প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন মনির উদ্দিন। পরে তিনি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী-চানন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।