১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৪৯

চকরিয়ায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ  © টিডিসি

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে চকরিয়া থানা-পুলিশ। 

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশে তৈরি রাইফেল, শটগানসহ বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র-গুলি তৈরি ও কেনাবেচা এবং ডাকাতদের কাছে অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনায় এবং কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

চকরিয়া থানা-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশের একটি অভিযানিক দল লালব্রিজ এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর আসে, বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ছনুয়া পাড়ার একটি বসতঘরে একদল ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে।

খবর পাওয়ার পর ওসি মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুর্গম এলাকায় যানবাহন চলাচলের সুযোগ না থাকায় পুলিশ সদস্যরা গাড়ি রেখে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে রাতের অন্ধকারে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

পরে বসতঘরটি ঘেরাও করা হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, আরও কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানায়, রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬), মো. সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০) এবং জহুরা বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় একটি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল; একটি দেশীয় তৈরি একনালা রাইফেল; একটি দেশীয় তৈরি শর্টগান; ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি; ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি; দুই রাউন্ড তাজা শটগানের কার্তুজ; দুই রাউন্ড শটগানের কার্তুজের খোসা;
একটি ক্লিনিং রড; অস্ত্র ও গুলি তৈরির সরঞ্জাম; তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও তিনটি বাটন মোবাইল ফোন।

পুকুর থেকে মিলল আরও ৭৬৭ গুলি
প্রথম অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাচা পাড়া এলাকায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে সেখানে শহর বানু (৫৫) নামে আরও একজন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তার বসতঘরের পেছনের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই বস্তার ভেতর থেকে ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি পাওয়া যায়।

পুলিশের হিসাবে, প্রথম অভিযানে ৫৮ রাউন্ড এবং দ্বিতীয় অভিযানে ৭৬৭ রাউন্ডসহ মোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

চকরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই এলাকায় অস্ত্র ও গুলি তৈরি, অস্ত্র-গুলি কেনাবেচা এবং ডাকাতির জন্য অন্যান্য ব্যক্তির কাছে অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের দাবি, তারা চকরিয়া থানা এলাকায় বিভিন্ন সড়ক ডাকাতি এবং আন্তঃজেলা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য দিয়েছে। এছাড়া অস্ত্র-গুলি ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা এবং মাছের ঘোনাসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির পরিকল্পনার সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে মামলা রয়েছে কি না, সেগুলোও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে চকরিয়া থানা পুলিশ।

চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অভিযোগে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতি ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার ঘটনায় প্রচলিত আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অপরাধ দমনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।