১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৬

প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী  © সংগৃহীত

মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে কারাগারে আটক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এই আদেশ দেন।

এদিন সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মেখল পুণ্ডরিক ধামে মারা যান চিন্ময় কৃষ্ণের মা শ্রীমতী সন্ধ্যা রাণী ধর (৭১)। এরপর প্যারোলে মুক্তির জন্য চিন্ময়ের পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাঁর প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। আদেশটি হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

চিন্ময় কৃষ্ণ কারাগারে আটক আছেন ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে। তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার শুরু হয় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার মাধ্যমে। ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছিলেন ওই সময়ে নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান।

ওই মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়। এ সময় তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে আদালত-সংলগ্ন এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম দিয়ে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ওই মামলায়ও চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয় আদালত।

এছাড়া হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের করা তিনটি এবং আলিফের ভাইয়ের করা একটি মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।