দিনাজপুরে নিখোঁজের চার দিন পর মরদেহ উদ্ধার, প্রতিবেশী গ্রেপ্তার
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর মফিদুল ইসলাম নামের এক রাজমিস্ত্রির মরদেহ একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংক থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার প্রতিবেশী মো. মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মফিদুল ইসলাম আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন তার পরিবারের পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মালদহ গ্রামে একটি সেচ পাম্পসংলগ্ন পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা টয়লেটের স্লাব সরিয়ে ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নবাবগঞ্জ থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরে নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহতের প্রতিবেশী মো. মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ মিয়া জানান, ঘটনার রাতে গান শোনার উদ্দেশে তিনি মফিদুলের কাছে যান। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মফিদুল তার স্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন। পরে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহটি টয়লেটের ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন বলে জানান তিনি।
গ্রেপ্তার মাসুদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বাঁশের লাঠি ও নিহতের মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।