০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:২০

মামলায় সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে বাদীকে মারধরের অভিযোগ

মামলায় সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে বাদীকে মারধরের অভিযোগ  © সংগৃহীত

শেরপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে (১৭) ধর্ষণ ও গর্ভপাতের মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে মামলার বাদী ও কিশোরীর বাবাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পাঁচজনের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর চর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত বাদীকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কামারেরচর ৬ নম্বর চর গ্রামের এক হতদরিদ্র কৃষকের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে একই গ্রামের মো. শিপন মিয়া ওরফে ফকিরের (২৩) বিরুদ্ধে। এতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তার গর্ভপাত করানোর অভিযোগ করা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শিপন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা করেন কিশোরীর বাবা। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শেরপুর জেলা সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে সিআইডির উপপরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন তদন্ত শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত সনদপত্র পর্যালোচনা করে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

পরে ট্রাইব্যুনাল তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামি শিপন মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে শিপন মিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে মুক্ত হন। মামলাটির অভিযোগ গঠন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, এরপর থেকে শিপন মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে ৬ নম্বর চর গ্রামে বাদীর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে শিপন মিয়া, তার বাবা আজমত আলীসহ আসামিপক্ষের লোকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বাদী।

বাদীপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিপনের আত্মীয় ও জেলা প্রশাসকের ট্রেজারি শাখার কর্মচারী মো. রুহুল আমিন এবং তার ভাই মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে থানায় গিয়ে মামলা না করার জন্যও তারা বাদীপক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়ান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শিপনের আত্মীয় মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার ভাতিজাকে বাঁচানোর চেষ্টা আমি করব, এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি তাদের কোনো হুমকি দিইনি।’

এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র দাস বলেন, ‘ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’