০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১৭

নতুন দুই মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক চিফ হুইপ

নতুন দুই মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক চিফ হুইপ  © সংগৃহীত

দশম জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে আরও নতুন দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। 

আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক পৃথক আদেশে দুই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখাতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।

আজ আদালতে সাবেক এই চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে আদালতে হাজির করা হয়। এরআগে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে ফিরোজকে আদালত থেকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় শিশু নাঈম হাওলাদারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ি থামার এস আই নাজিম উদ্দিন ফকির সাবেক চিফ হুইপকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। অপরদিকে আন্দোলনের সময় একটি ভবনের ছাদে তারেক ও শিহাব নামের দুজন যুবক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দায়েরকরা হত্যা চেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াও সংশ্লিষ্ট মামলায় আ স ম ফিরোজকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছিল শিশু নাঈম হাওলাদার। কুতুবখালী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বেলা আড়াইটার দিকে নাঈম হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলে সে মৃত্যুবরণ করেন। হত্যার ঘটনায় আ স ম ফিরোজ জড়িত ছিলেন বলে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে দাবি তদন্ত কর্মকর্তার।

আপরদিকে, একইদিন কুতুবখালী এলাকায় সুবর্ণ পান্না ম্যানসনের ছাদে দাঁড়িয়ে আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণ করছিলেন তারেক ও শিহাব নামের দুই যুবক। এসময় তারাও গুলিবিদ্ধ হন। 

পরে তারা চিকিৎসা শেষে ফিরে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন তারেক। আ স ম ফিরোজ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার পতনের পর ২৩ আগস্ট ভাটারা থানার হত্যা মামলায় রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই মামলায় জামিন পেলেও রাজনৈতিক বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানি চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে নিজের স্বপক্ষে কথা বলার সুযোগ পান আ স ম ফিরোজ।

আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘আমার বয়স ৭৮ বছর। দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছি। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আমি আটবারের সংসদ সদস্য। ক্ষমতায় থাকাকালীন আমি কোনো অন্যায়-অবিচার করিনি। এ জীবনে কোনো অপরাধ করিনি। তাছাড়া আমি অনেক অসুস্থ, আমাকে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা নিতে পারছি না, জামিন পেলেই আবার আমাকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে।’

চিকিৎসা নেওয়ার জন্য জামিন দাবি করেন আ স ম ফিরোজ। প্রতিক্রিয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা।