গাজীপুরে জুয়েলারি দোকানমালিক হত্যা, গ্রেপ্তার দুজনের আদালতে স্বীকারোক্তি
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ভূষিরমিল রোড এলাকায় জুয়েলারি দোকানের মালিক ও স্বর্ণকার আবুল কালাম আজাদকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মো. নাছির উদ্দিন (৩২) ও মধুপুর উপজেলার মো. সুজন মিয়া (২৭)।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগর পুলিশের অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ আগস্ট দিবাগত রাত পৌনে ৩টা থেকে ভোর সোয়া ৫টার মধ্যে কোনো এক সময়ে গাছা থানাধীন ভূষিরমিল রোড এলাকায় ‘সাদিয়া জুয়েলার্স’ নামে একটি দোকানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
দুর্বৃত্তরা দোকানে প্রবেশ করে মালিক আবুল কালাম আজাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে দোকানে থাকা বিভিন্ন স্বর্ণালংকার লুট করে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরদিন ২৪ আগস্ট নিহতের ভাই মো. কামাল হোসেন বাদী হয়ে গাছা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর জিএমপির অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ও সহকারী উপপুলিশ কমিশনারের দিকনির্দেশনায় হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
গাছা থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আব্দুল আউয়াল সরদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও মধুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাছির উদ্দিন ও সুজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার এবং নিহত আবুল কালাম আজাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের পাশ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকুও জব্দ করা হয়।
জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের সোমবার গাজীপুরের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।