অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলবের আহ্বান
ইতালির ভেনিসে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে যাওয়া অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাসবাদী’ চক্রের হামলার ঘটনায় জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও ক্ষোভ জানিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ থেকে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান তারা।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, এই হামলা প্রমাণ করে দেয়- ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও তার সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও তাদের রক্তাক্ত ফ্যাসিবাদী গণহত্যাকারী ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে। জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত এই ফ্যাসিবাদী চক্র আজও সন্ত্রাস, ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে বাংলাদেশের নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষকে স্তব্ধ করার হীন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসের মাটিতে একজন নিরস্ত্র নারী শিল্পীর ওপর দলবদ্ধ আক্রমণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি পরিকল্পিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের দাবি, অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে ঢাকাস্থ ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কূটনৈতিক প্রতিবাদলিপি পেশ করতে হবে এবং ইতালির ভূখণ্ডে সংঘটিত এই সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে জোরালো ব্যাখ্যা তলব করতে হবে। হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইতালির আদালতে অবিলম্বে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থার সহায়তা নিতে হবে।
তারা আরও জানায়. বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের দোসর ও সুবিধাভোগী শিল্পীদের গণমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত দলের পক্ষে সাফাই গাওয়া কাউকে জাতি আর প্রশ্রয় দেবে না।
বাঁধনের নিরাপত্তার বিষয় উল্লেক করে জানানো হয়- প্রবাসে অবস্থানরত সকল জুলাই যোদ্ধা ও বিপ্লবীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার ও দূতাবাসগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রণয়ন করতে হবে।
অভিনেত্রী বাধনের ওপর হামলার ঘটনাটও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘকে অবহিত করে ফ্যাসিবাদী নেটওয়ার্কের প্রবাসী কার্যক্রম তদন্তের ব্যবস্থা করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ আরও জানায়- ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের লড়াই দেশে বা বিদেশে কোথাও থামবে না। বাঁধনের ওপর হামলা শুধু তার ওপর আক্রমণ নয়, এটি পুরো জাতির অর্জিত মুক্তির ওপর আঘাত। তাই সরকার ও জনগণকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।