আসামি না হয়েও কারাগারে, ২০ দিন পর জামিন
পটুয়াখালীতে আর্থিক প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার হয়ে ২০ দিন কারাগারে ছিলেন জলিল হাওলাদার (৫০)। তবে ওই মামলার সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততাই ছিল না। প্রকৃত আসামির সঙ্গে নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম মিলে যাওয়ায় ভুলবশত তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে জানায় পুলিশ।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক ভুক্তভোগীর জামিন মঞ্জুর করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট দুপুরে একটি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে জলিল হাওলাদারকে কলাপাড়া উপজেলার শিববাড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন মহিপুর থানা-পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম। পরে যাচাই বাছাই ছাড়াই তাকে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
ভুক্তভোগী জলিল হাওলাদারের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মালেক হাওলাদার ও হালিমা খাতুনের দম্পতির ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন।
ভুক্তভোগীকে গ্রেফতার করা মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মহিপুর থানার শিববাড়িয়া এলাকার মো. জলিল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পাওনা পরিশোধের জন্য জলিলের দেওয়া একটি চেক ২৭ মার্চ ২০২৩ তারিখে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।
এ মামলায় আদালত থেকে জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে নাম, বাবার নাম ও একই গ্রামের হওয়ায় ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, কারাভোগ করা জলিল হাওলাদারের মায়ের নাম হালিমা খাতুন। অন্যদিকে মামলার প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের মায়ের নাম মাজেদা। অর্থাৎ দুজনের মায়ের নাম ভিন্ন। এই বিষয়টি যাচাই-বাছাই না করেই তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।
ভুক্তভোগী জলিল হাওলাদারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মামলার প্রকৃত আসামি প্রবাসে থাকেন। পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে জলিলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করি এবং আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এঘটনার জন্য মহিপুর থানার ওসিকে আদালতে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।’
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রকৃত আসামীর নাম, বাবার নাম এবং ঠিকানায় মিল থাকায় তাকে ভুলবশত গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানায় মায়ের নাম কিংবা ফোন নম্বর থাকে না। একারনে তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই সম্ভব হয়নি। গ্রেফতারের বিষয়ে অফিসারদের আরও সতর্ক হতে পরামর্শ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ত্রাইম অ্যান্ড অপস) সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানায় মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। ঘটনা জানার পর ওই ব্যক্তির জামিনের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে সুপারিশ করা হয়েছে।