০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৩৮

সুন্দরবনে ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ, আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি উদ্ধার

র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন (ইনসেটে উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি)  © সংগৃহীত

ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। সুন্দরবনে সক্রিয় পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। একই সময়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক অভিযানে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ওয়াকিটকি ও বিপুল পরিমাণ খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের এ ঘটনা ঘটে। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন সদস্য রয়েছেন।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুতা ও বনদস্যুতার কারণে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ সুন্দরবননির্ভর মানুষকে অপহরণ, জিম্মি, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়েছে। আশির দশক থেকে চলা এসব অপরাধ দমনে র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় গত তিন দিনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৪টি শর্টগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, ৪টি পাইপগান, ৩টি এয়ারগান এবং ১টি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৭টি ওয়াকিটকি, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১৪টি খালি কার্তুজ।

র‍্যাব জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে এখনো সক্রিয় থাকা অন্য দস্যুদের অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আত্মসমর্পণ করলে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও দস্যুতা অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে র‍্যাব।

এদিকে বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও নির্বিঘ্ন বিচরণ এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশ বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে।

সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক আগের দিন ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ এবং বিপুল অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে র‍্যাব। তাদের মতে, এ উদ্যোগ সুন্দরবননির্ভর জেলে, মৌয়াল ও বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ বাড়াবে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সুন্দরবন ও উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দস্যুদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।