০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৫০

চলন্ত ট্রেনে নারীকে ধর্ষণ, দুই পুলিশসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ট্রেন  © সংগৃহীত

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ আন্তঃনগর ট্রেনের ক্যান্টিনে ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই পুলিশসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে আবু বক্কর সিদ্দিক (২২) নামে এক ক্যান্টিন বয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে সান্তাহার রেলওয়ে থানার পুলিশ।

এর আগে, সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে থানাধীন নাটোর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  

পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফোন করে জানান, চলন্ত ট্রেনে তাকে তিনজন মিলে ধর্ষণ করেছে। ফোনটি রিসিভ করেন ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল মো. কাইফ শাহ। পরে ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এএসআই তরুন কুমার আচার্য্য কলার ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন। 

৯৯৯-এর পুলিশ পরিদর্শক এবং গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার সাত্তার বলেন, ওই নারী ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুলবশত টিকিট ছাড়াই ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে উঠে পড়েন। একপর্যায়ে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি তাদের সিরাজগঞ্জ যাওয়ার কথা জানান। পরে ট্রেনের ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিকসহ আরও দুই ব্যক্তি তাকে সিটে বসিয়ে দেওয়ার কথা বলে ক্যান্টিন বয়দের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে ট্রেনের যাত্রীরা তাকে উদ্ধার করেন এবং ক্যান্টিনবয়কে আটক করেন। 

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি জানার পর ৯৯৯ থেকে চলন্ত ট্রেনটির অবস্থান জেনে পরবর্তী স্টপেজ শান্তাহার রেলওয়ে থানাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হয়। পরে ট্রেনটি শান্তাহার স্টেশনে পৌঁছালে রেলওয়ে থানা পুলিশের একটি দল ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে এবং ধর্ষণের অভিযোগে আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী দুই পুলিশসহ মোট তিনজনের নামে মামলা করছেন বলে জানা গেলেও সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য দিতে গড়িমসি করার অভিযোগ উঠেছে ওসির বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সান্তাহার শহর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, সোমবার রাতে আমি নিজেও তথ্যের জন্য ওসির কাছে গিয়েছিলাম। তিনি মামলা এন্ট্রি হওয়ার পর তথ্য দিবেন বললে আমি এবং সিনিয়র সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু থানা থেকে চলে আসি।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি কোনো তথ্য দিচ্ছেন না এবং সাংবাদিকদের ফোনও ধরছেন না। তবে পরে বুঝলাম তার পুলিশ জড়িত থাকায়, তাদের সেভ (রক্ষা) করতে হয়তো তিনি তথ্য গোপন রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তবে সান্তাহার রেলওয়ে থানার দুলাল উদ্দীন বলেন, আসামিকে আদালতে পাঠানোর আগে মামলার তথ্য সাংবাদিকদের দেওয়ার বিধান নেই।