০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৫

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে আটকে রাখলেন কলেজ ছাত্রদল সভাপতি, পুলিশ নিয়ে গিয়ে উদ্ধার

ভুক্তভোগী বর্না খানম ও অভিযুক্ত সাহেদ তালুকদার  © সংগৃহীত

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার এক কলেজ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। পরে শাশুড়ির লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই গৃহবধূকে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে তার মায়ের জিম্মায় দিয়েছে। 

অভিযুক্ত সাহেদ তালুকদার (২৩) ড. এমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হেদায়েত শেখের ছেলে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে ২০২৫ সালের ২৬ মে গোপালগঞ্জ আদালতের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হেদায়েত তালুকদারের ছেলে ও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাহেদ তালুকদারের সঙ্গে লেবুতলা গ্রামের মৃত আনসার শেখের মেয়ে বর্না খানমের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে মারধর করে শাশুড়ির কাছে যৌতুকের দাবি করেন সাহেদ। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় সাহেদ ও তার পরিবারের লোকজন স্ত্রী বর্না খানমকে মারপিট শুরু করেন। তখন মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময় টাকা দেন শাশুড়ি জেসমিন বেগম। পরে গত ২৯ আগস্ট জেসমিন ও বোন কল্পনা বেগম সাহেদের বাড়ি থেকে বর্নাকে আনতে গেলে তাদের সামনেই তাকে মারধর করে আটকে রাখে।

জেসমিন বেগম বলেন, ‘ওরা নিজেরা কোর্ট ম্যারেজ করেছিল। বিয়ের পর থেকেই জামাই কথায় কথায় টাকা দাবি করে। আগে অনেক টাকা-পয়সা দিয়েছি, কিন্তু এখন আর দিতে পারি না। টাকা না পেলেই আমার মেয়েকে মারধর করে। মেয়েকে আনতে গেলে আমাকেও গালাগালি করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এসব কারণে যদি আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, তাহলে সে দায় কে নেবে! আমি আর ওর কাছে মেয়ে দেব না।’

আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ফাইনালে পাসের হার টানা ৫ বছর কমেছে

নির্যাতনের শিকার বর্না খানম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই সাহেদ সব সময় আমার কাছে টাকা-পয়সা চাইত। এমনকি আমার বাবার বাড়ি থেকেও অনেকবার টাকা চুরি করেছে। বিয়ের দেড় বছরের মধ্যে আমাকে এক টুকরো সুতাও কিনে দেয়নি। সাহেদ নিয়মিত নেশা করে আমাকে মারধর করে। আর তার মা মাসুলা বেগম এসব কাজে সায় দেয়। কোন কাজ না করে শুধু টাকা চায় আর না দিলে বিএনপির দলীয় পদের পাওয়ার দেখায়। কয়েক দিন আগেও আমার মা ও বড় বোনের সামনে আমাকে বেধড়ক মারধর করে আটকে রেখেছে।’

বর্নার বড় বোন কল্পনা খানম বলেন, ‘মারধরের খবর পেয়ে মা আর আমি ছোট বোন বর্নাকে আনতে গেলে তাকে মারপিট করে আটকে রাখে। আর চরম খারাপ ব্যবহার করে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে আমার মা টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করে। তখন পুলিশ গিয়ে আমার বোনকে উদ্ধার করে মায়ের জিম্মায় দিয়ে যায়।’

অভিযুক্ত সাহেদ তালুকদার বলেন, ‘আমি কখনো শাশুড়ির কাছে যৌতুক দাবি করিনি। আর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হওয়ায় কখনো কখনো বেশি কথা বলেছি। তারা আমার সংসার ভাঙার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। পুলিশ এসে আমার স্ত্রীকে তার মায়ের জিম্মায় দিয়েছে। আইনি ও সামাজিকভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করব।’ 

টুঙ্গিপাড়া থানার উপপরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগের পর প্রাথমিকভাবে বর্নাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে তার মা জেসমিন বেগমের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।