৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪০

বিমানবন্দর থেকে বের হতেই গাড়ি থামিয়ে প্রবাসীর স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই, ছাত্রদল-বিএনপির ৩ নেতা গ্রেপ্তার

বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শান্ত  © সংগৃহীত

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর এক প্রবাসীর পাঠানো ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিএনপি ও ছাত্রদলের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি রয়েছেন।

শনিবার রাতে এবং রবিবার সন্ধ্যায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক বেগ। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর ভাইয়ের করা মামলার ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট মো. সুমন বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। এতে আব্দুর রউফকে এক নম্বর, রিপনকে দুই নম্বর, আল-আমিন শান্তকে তিন নম্বর এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাদী সুমন এজাহারে উল্লেখ করেন, তার বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়াপ্রবাসী। পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার ও একটি বিয়ের জন্য গত ২৮ আগস্ট তিনি মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাঠান। পরে সুমন তার বন্ধু রোহান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার বড় ভাইয়ের পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০০ গ্রাম করে মোট ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার নেন। এরপর তারা ভাড়ায় নেওয়া একটি মাইক্রোবাসে করে বিমানবন্দর এলাকা থেকে বের হন।

এজাহারে বলা হয়, রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে পৌঁছালে আসামিরা তাদের গাড়ির পথরোধ করেন। তিনি ও রোহান গাড়ি থেকে নামার পর আসামিরা তাদের ঘিরে ধরেন। তাদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। তাদের কাছে বোমা রয়েছে বলেও আসামিরা দাবি করেন। এরপর তাদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের কাছে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে সুমন ও রোহানকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এক পথচারী কৌশলে তার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ঘটনাস্থলে আরও লোকজন জড়ো হতে থাকলে আসামিরা ছিনিয়ে নেওয়া স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় নাম থাকা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।