মোবাইল বন্ধক রেখে ইয়াবা কিনেছিলেন আসামিরা
গত শুক্রবার ভোরের দিকে রংপুরের শিক্ষক পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তার আগে রাত ১২টার দিকে প্রতিবেশী বন্ধু সীমান্ত দাসের বাড়িতে বসে তিন পিস ইয়াবা সেবন করেন অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। সেখান থেকে বেরিয়ে রাত ৩টার দিকে আরও ইয়াবা সেবন করতে ইচ্ছা হয় তাদের। তখন নগরীর কামাল কাছনা এলাকার শান্ত নামের এক ইয়াবা কারবারির কাছে গিয়ে ফোন বন্ধক রেখে আরও চার পিস ইয়াবা কেনেন অভিযুক্তরা।
আদালতে দেওয়া দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে এ তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কনফারেন্স রুমে মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ বলেন, সেই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করি খুব দ্রুত তাকেও আইনের আওতায় আনা যাবে।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে লুট করা ১৫ হাজার টাকা থেকে সিদ্ধার্থ দাস সাড়ে তিন হাজার টাকা নিয়ে বন্ধক রাখা সেই মোবাইল ফোনটা ছাড়িয়ে নেন। ওই রাতে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তারা মোট ৯ পিস ইয়াবা সেবন করেন বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরও কোনো কারণ থাকতে পারে কি-না—এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘সিদ্ধার্থ দাসের বক্তব্যে, কোর্টের জবানবন্দিতে একটা কথা উঠে এসেছে—তার পূর্বপুরুষদের জমি এরা (গণপতি চক্রবর্তী) কিনেছিলেন। পূর্ব পুরুষদের জমি-সম্ভবত একটু বেশি দামে কেনা হয়েছে বলে শোনা গেছে। ওই জমি কেনাটা হয়তো তারা বা তাদের বংশের শরিকরা ভালোভাবে নেননি। শরিকরা যারা আছেন তারা সবাই যে টাকা পাওয়ার কথা, সেট পাননি। আনুপাতিক হারে তাদের যে শরিকানা ছিল, এটা তারা না পাওয়ায় মনের মধ্যে একটা ক্ষোভ থাকতে পারে। সেদিকটাও আমরা দেখছি।’
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, ‘আরেকটি বিষয় হলো, ওই মাছুয়াপাড়ার বেশিরভাগ লোক হলো দাস বংশের। আর গণপতি স্যাররা হলেন ব্রাহ্মণের জাত। তো সেখানে একটু ব্যবধান ছিল। অর্থাৎ মেলামেশা বা রাস্তাঘাটে দেখা হতো কিন্তু বাসায় যাওয়া আসাটা তেমন একটা ছিল না। এ নিয়েও তাদের মনের মধ্যে কোনো ক্ষোভ থাকতে পারে।’