১৫ আগস্ট নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে ২২ জন রিমান্ডে
১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে ঢাকার বসুন্ধরার আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের আরও ২২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ রিমান্ডের আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. তারেক, তারেক, শাহিন, ফয়সাল, মামুন মিয়া, মুন্না, তামজিদ মিয়া নয়ন, ইয়াছিন, জামিল, রাকিবুল হাসান রাতুল, ফয়সাল, সিয়াম, শরিফ, সাদিকুর রহমান পায়েল, শাহিন আলম, আব্দুল আলী বাবু, অনিক, তারিকুল ইসলাম, আ. রহমান, ইয়ামিন মিয়া, আতিক ও আশিক।
গত ১৫ আগস্ট আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান। ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন রাখেন মঙ্গলবার। এদিন কারাগারে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানি হয়।
এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম-ব্লক, রোড-২৮-এর একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ৫৪ জনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ভাটারা থানায় মামলা করে পুলিশ।
পরদিন ১৪ আগস্ট ৫২ আসামিকে কারাগারে আটক রাখা এবং আইনের সংঘাতে আসা দুই শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫২ আসামিকে কারাগারে এবং দুই শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এরপর ১৫ আগস্ট তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই হাফিজুর রহমান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা ১৫ আগস্টে উপলক্ষে একত্রিত হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। তারা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা সেখানে সমবেত হয়। এ সময় তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।