২৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:২৫

অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের সঙ্গে ডিএনএর মিল পাওয়া গেলো নবজাতকের

অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর  © সংগৃহীত

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার পর এই তথ্য জানা গেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী শিশুটির জন্ম দেওয়া নবজাতকের সাথে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ ৯৯.৯৯% হুবহু মিলে গেছে। 

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা নারী ও শিশু আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. নুরুল কবীর রুবেল। ইতিমধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা পুলিশের হাতে এসেছে। পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

এ সম্পর্কে পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করার পর অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের সঙ্গে নবজাতকের নমুনা ম্যাচ করেছে। আমরা গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তে কোনো ধরনের গ্যাপ না থাকে, সে জন্য কয়েকজন পরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, তিন-চার দিনের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারব।’

জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নুরুল কবীর বলেন, নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্র দাখিলের আগে রাষ্ট্রপক্ষের পিপির মতামত নেওয়া হয়। তিনি আজ এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যাবে এবং আদালত আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে ওই শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিলে শিশুটি প্রথমে ঘটনা গোপন রাখে। পরবর্তীতে 
শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং শরীরে পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। 

এই ঘটনা জানাজানি হলে শিশুর পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকিসহ শিশুর নানা ও মামার ওপর দায় চাপিয়ে স্থানীয়ভাবে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরিবারটি ম্যানেজ না হওয়ায় মামলা হওয়ার ভয়ে মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে যান ওই শিক্ষক। এই ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিলে র‌্যাব-১৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিলে গত ১৭ মে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে নবজাতক ও তার মায়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয় ২৯ জুলাই। আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক বর্তমানে কারাগারে আছেন। আর নবজাতকসহ শিশুটি সিলেটের সেফ হোমে রয়েছে। এরপর আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিআইডির একটি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায়। সেখানে দুটো ডিএনএ পরীক্ষায় হুবহু মিলে যাওয়ার প্রতিবেদন ২৪ আগস্ট নেত্রকোনা পুলিশের হাতে পৌঁছায়।