২২ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৪৮

ঢামেক চিকিৎসককে মারধর, চাঁদা দাবির মামলায় আসামি ফারহান ৫ দিনের রিমান্ডে

মারধরের শিকার চিকিৎসক  © ফাইল ছবি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, গুরুতর আঘাত ও চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি ফারহান শাহরিয়ার ওরফে ইভানকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিচালক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আতিকুজ্জামান।

রিমান্ড আবেদন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ও নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আসাদুর রহমান (৫৭) দুই মাস যাবৎ পল্টন মডেল থানাধীন শান্তিনগর এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বারে নিয়মিত রোগী দেখেন।

গত ১৭ আগস্ট রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানাধীন শান্তিনগর এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে সিএনজিতে উঠামাত্রই মামলার আসামিরাসহ তদন্তে প্রাপ্ত গ্রেপ্তারকৃত আসামি ফারহান শাহরিয়ার ওরফে ইভান এবং অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে বাদীর সিএনজির গতিরোধ করে।

সিএনজির গতিরোধ করার কারণ জানতে চাইলে ধৃত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে টানাহেঁচড়া করে সিএনজি থেকে বের করে। এ সময় মামলার আসামি জীবন ওরফে আদিল বাদীর ডান চোখে সজোরে ঘুষি মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। তারা উপর্যুপরি তাকে আঘাত করে বাদীর মাথাসহ দুই চোখের ওপর এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুলা জখম করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। পথচারীরা এগিয়ে এলে এজাহারনামীয় আসামি জীবন ওরফে আদিলকে আটক করলে অন্যান্য আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যায়।

এর আগে বেশ কিছুদিন পূর্বে অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে বাদীর ব্যবহৃত মোবাইলে কল করে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করা হয়। ওই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং সোর্সের তথ্যমতে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় গত ২১ আগস্ট আসামি ফারহান শাহরিয়ার ওরফে ইভানকে তাঁর বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি উপরোক্ত নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন। তদন্তে প্রাপ্ত ধৃত আসামিকে মামলার ঘটনা-সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাপর আসামিদের সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখিত ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উপরোক্ত ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে আসামি স্বীকার করেন। মামলার প্রাথমিক তদন্তকালে উপরোক্ত ধৃত আসামি এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

এমতাবস্থায় মামলার ঘটনা-সংক্রান্ত বিষয়ে এবং পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তারের নিমিত্তে এবং নিম্নবর্ণিত কারণে আসামির ১০ (দশ) দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত আবশ্যক।