ইতালিতে কনসার্টে গিয়ে হোটেল নোংরা করার অভিযোগ জেমসদের বিরুদ্ধে, আয়োজকদের জরিমানা
ইতালির রোমে কনসার্টে অংশ নিতে গিয়ে হোটেলের কক্ষ নোংরা ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় রকশিল্পী নগর বাউল জেমস ও তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য আয়োজকদের কাছ থেকে ২০০ ইউরো জরিমানা দাবি করেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও বার্তার স্ক্রিনশট ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে অংশ নেন জেমস। এ সময় তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের চারটি অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করেন। এসব অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন মাহফুজ আনাম জেমস, রুবাইয়াত ঠাকুর, মোহাম্মদ নাফিজ ইবনা মান্নান, তালুকদার সাব্বির, আবদুল কাইয়ুম ও আহসান এলাহী।
আয়োজকদের সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের চুক্তি অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট ওই চারটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে অতিথিদের চেক-আউট করার কথা ছিল। পরে হোটেলের কর্মীরা কক্ষগুলো পরিষ্কার ও পরিদর্শন করতে গিয়ে কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্টের অবস্থা খারাপ দেখতে পান। এর মধ্যে ৫৪৯ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টের অবস্থা সবচেয়ে বেশি নোংরা ছিল বলে হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
হোটেল কর্তৃপক্ষের পাঠানো ছবিতে মেঝেতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পানির বোতলসহ বিভিন্ন আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। ডাইনিং টেবিলে ছিল ব্যবহৃত প্লেট, পলিথিনের ব্যাগ ও খাবারের উচ্ছিষ্ট। রান্নাঘরের সিঙ্কেও নোংরা থালা-বাসন পড়ে ছিল। সেগুলোর ওপর একটি কাঁচা ডিমও দেখা যায়। কক্ষের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল নানা ধরনের জিনিসপত্র ও আবর্জনা।
চেক-আউটের পর হোটেল কর্তৃপক্ষ আয়োজক প্রতিনিধি মোয়াজকে বিষয়টি জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটে দেখা যায়, হোটেল ম্যানেজমেন্ট কক্ষের অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ওই অতিথিরা সকালে হোটেল ছেড়ে গেছেন। তবে কক্ষের অবস্থা নিয়ে তারা মন্তব্য করতে চায় না। দ্রুত প্রতিক্রিয়া চেয়ে তারা জানায়, ভবিষ্যতে ওই হোটেলের সুবিধা ব্যবহার করতে হলে চূড়ান্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য কমপক্ষে ২০০ ইউরো পরিশোধ করতে হবে।
হোটেল কর্তৃপক্ষের শর্ত অনুযায়ী, অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার এই অর্থ পরিশোধ না করলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট আয়োজক বা অতিথিদের সেখানে কক্ষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিথিরা চেক-আউটের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে রিসেপশনে আসেননি। কোনো ধরনের যোগাযোগ না করেই তারা হোটেল ছেড়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রোমের কনসার্টের আয়োজক পক্ষ থেকেও জেমসের ম্যানেজার রবিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগটির সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত জেমস, তার ম্যানেজার কিংবা সফরসঙ্গীদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হোটেলের অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
এদিকে বুধবার (২০ আগস্ট) প্রবাসী সাংবাদিক মাঈনুল ইসলাম নাসিম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ ঘটনা নিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।
তিনি লেখেন, ফারুক মাহফুজ আনাম বাংলাদেশের বিখ্যাত ব্যান্ড তারকা সংগীত শিল্পী। জেমস নামে তাকে এক নামে চেনে তৃতীয় বিশ্বের এই দেশটির জনগণের একটা বিশাল অংশ। ৬২ বছর বয়স নিয়েও তিনি গান করে বেড়ান দেশ থেকে দেশান্তরে। এই সপ্তাহে আছেন ইতালিতে। রোমে জেমসের কনসার্ট নিয়ে যতটা মেতেছে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা, তার চাইতে বড় বেশি তুলকালাম চলছে এখন তারকা খচিত অভিজাত হোটেল অ্যাপার্টমেন্টে তার রেখে যাওয়া (ছবিতে দৃশ্যমান) মূল্যবান স্মৃতিসামগ্রী নিয়ে। হোটেল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আর্থিক জরিমানা ধরিয়ে দিয়েছে জেমস এন্ড কোং রোমে যারা এনেছে তাদের হাতে৷ ইতালীয় পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে বাংলাদেশ থেকে আসা শিল্পীর রুচির এই শৈল্পিক দুর্ভিক্ষ জনিত অবক্ষয় স্ক্যান্ডাল।
তিনি বলেন, জমজমাট আদম ব্যবসা, মাদকের কায়কারবার, বেপরোয়া পরকীয়া, পরিকল্পিত খুনখারাবি সহ রকমারি অপরাধ অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বাম্পার ফলন যখন ইতালির বাংলাদেশ কমিউনিটিতে, অপরিচ্ছন্ন চলাফেরা এবং বাসাবাড়ি নোংরা রাখায় যখন বাংলাদেশিদের কুখ্যাতি ক্রমবর্ধমান, বাংলাদেশ নাম শুনলেই যখন ইতালির বড় শহরগুলোতে বাসা ভাড়া দিতে চায় না ইতালীয় মালিকেরা, সর্বোপরি বাংলাদেশিদের ইজ্জত সম্ভ্রমের কুলখানি চেহলাম সব যখন সম্পন্ন, তখন ক্যাশ হাজার হাজার ইউরোর বিনিময়ে কয়েকটা গান গাইতে এসে ভাবমূর্তির কফিনে নতুন পেরেক ঠুকে দিয়েছেন জেমস।
তিনি লেখেন, রোমে কনসার্ট আয়োজকরা গায়ক জেমস, তার বিজনেস ম্যানেজার এবং সহশিল্পীদের পেছনে যে হাজার হাজার ইউরো ঢেলেছে, তা থেকে ইতালীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট বিশেষ ডিপার্টমেন্ট যথাযথ আয়কর পেয়েছে কি-না, সাদা ইউরো কালো পথে চালান হয়েছে কি-না, সবকিছুই তদন্ত করে দেখবে গুয়ার্দিয়া দি ফিনান্সা (ফিনানশিয়াল গার্ড মিলিটারি পুলিশ)। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্য সময়। জেমস এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা রোমের অভিজাত হোটেল অ্যাপার্টমেন্টে খুব যত্ন সহকারে যেভাবে শৈল্পিক কারুকাজ রেখে গিয়েছেন, তার মাশুল দিতে হবে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে। জেমস কী জবাব দেবেন? দুনিয়া ঘুরে কী শিখলেন বাউল? নাকি এটাই তার বহন করে আনা অভাগা বাংলাদেশের কৃষ্টি সংস্কৃতি?