এআই ক্যামেরায় ২ দিনে পাচঁ শতাধিক মামলা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর অটো ফাইন সিস্টেম ক্যামেরার নজরদারি শুরু হতেই ধরা পড়তে শুরু করেছে একের পর এক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা। গত দুই দিনে গতিসীমা লঙ্ঘন, উল্টো পথে চলাচল এবং অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন অপরাধে ৫০২টি ডিজিটাল মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় অবস্থিত এআই ক্যামেরা মনিটরিং ডেটা সেন্টারের ইনচার্জ আনিছুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়ককে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে মহাসড়কের ৪৯০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা, যার মধ্যে শুধু কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার অংশেই রয়েছে ১৯৯টি ক্যামেরা।
এসব ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলা তৈরি করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট গাড়ি মালিকের মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে দেয়। প্রাথমিকভাবে গতিসীমা নির্দিষ্ট রাখা হলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার করা হয়েছে এবং অধিকাংশ মামলাই হচ্ছে গতিসীমা লঙ্ঘনের কারণে।
গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই প্রযুক্তির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করা এই মহাসড়কে এআইভিত্তিক নজরদারি চালু হওয়ায় চালকদের বেপরোয়া গতি কমবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।
তবে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো চালকদের মাঝে ব্যাপক প্রচারণার ওপর জোর দিয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, জরিমানার চেয়ে সড়ক সুরক্ষা ও দুর্ঘটনা কমানোই এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য এবং সামনে এর ব্যবহার আরও জোরদার করা হবে।