১৫ আগস্টের পরিকল্পনা: গ্রেপ্তার ৫২ জনের ১৫ জন রিমান্ডে
১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন এলাকার একটি ফ্ল্যাটে গোপন বৈঠক থেকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ৫২ জনের মধ্যে ১৫ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- যুবলীগ নেতা মোত্তালিব (৩৫), যুবলীগ নেত্রী মেহজাবিন আক্তার মালা (২৭), যুবলীগ নেতা মো. রুবেল (৩২), জি কে মাসুদ (২৮), অন্তর মিয়া (১৯), মো. রমজান (৪৫), মামুন (২৯), মিঠু ওরফে আমির হোসেন (৩০), আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ (১৯), মো. সুমন মিয়া (৩০), আরিফ মিয়া (২২), মোস্তাক মিয়া (২০), সাইম হোসেন (২০), জাহিদ হাসান (১৯) ও শাহীন হোসেন ইমন (২০)। তারা নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
এদিন আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইসলাম মিয়া রাকিব ১৫ আসামির রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে শুনানি করেন। অপরদিকে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট উপলক্ষে নাশকতা ও দেশবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৫ আগস্ট রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন-ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ভাটারা থানা পুলিশ। পুলিশ উপস্থিত হলে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে।
পরে সেখান থেকে মোট ৫২ জনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে গত শুক্রবার ১৪ অগাস্ট বিকেলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন এর মধ্যে দুই আসামিকে বয়স বিবেচনায় শিশু হওয়ায় গাজীপুর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
গত ১৩ আগস্ট রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত গোপন খবরের ভিত্তিতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ই-ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ভাটারা থানা পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় এজাহারনামীয় ও তদন্তে প্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে একত্রিত হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়। ব্যানারগুলোর মধ্যে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের কথা বলা ছিল। আসামিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়ে গোপন বৈঠক করছিল। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অর্থায়নকারীদের চিহ্নিত করার স্বার্থে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।