১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪৮

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র খুনের দায়ে বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড

অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত  © সংগৃহীত

রাজধানীর পূর্ব বাড্ডা এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র নাসিম আহাম্মদ ইমাদ উদ্দিন হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বন্ধু আসিফ শিকদারকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তারের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি তানজীল হোসেন ভূঁইয়া সাজার তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসিফ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে নাসিম পূর্ব বাড্ডা পোস্ট অফিস গলিস্থ জনৈক মনিরের ফ্লেক্সিলোডের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন দোকানে চেঁচামেচি করছিল। নাসিম তাদের চিৎকার, চেঁচামেচি থামাতে বলেন। 

সেখানে উপস্থিত রমজান নাসিমকে জানান, তারা টিভিতে খেলা দেখা নিয়ে বাজি ধরছে। নাসিম তাদের বাজি ধরতে এবং চিৎকার, চেঁচামেচি করতে নিষেধ করে। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এক পয়ায়ে রমজানকে থাপ্পড় মারে আসিফ। বিষয়টি নিয়ে আসিফের বাসায় যান রমজানরা। তারা তাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসেন। 

তিনি আরও বলেন, পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাজার করতে বের হন আসিফ। বাসার নিচে নামার পর আসিফ নাসিমকে ছুরিকাঘাত করে। নাসিম দৌড়ে বাসার নিচে গিয়ে পড়ে যায়। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নাসিমের বাবা আলী আহাম্মদ সাইফুদ্দিন ওইদিনই বাড্ডা থানায় আসিফ, রমজান, আব্দুর রশীদের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। 

তদন্ত শেষে গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আব্দুস সোবহান ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আসিফকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে রমজান, আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচারকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।