যুবদল নেতা পরিচয়ে ৫০% চাঁদা দাবির অভিযোগ, পুলিশের সামনেই ঠিকাদারকে মারধর
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ইউনাইটেড চট্টগ্রাম পাওয়ার লিমিটেডের (ইউসিপিএল) একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি এবং তা না পেয়ে প্রকৌশলীসহ তিনজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুবদল নেতা পরিচয়ে এই চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউসিপিএল প্রকল্পের বাইরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এফএম এন্টারপ্রাইজের প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমির এবং প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ও স্থানীয় সংবাদকর্মী জিন্নাত আইয়ুবও হামলার শিকার হন।
আহত প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমির জানান, স্থানীয় আলী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে তাঁদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। তাঁর দাবি ছিল, ওই এলাকায় ব্যবসা করতে হলে তাঁকে ৫০ শতাংশ চাঁদা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এতে রাজি না হওয়ায় বুধবার সকালে আলী হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর পথ আটকে মারধর শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তাঁরা কর্ণফুলী থানাকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা আবারও তাঁদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর চালায়।
মেসার্স এফএম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আলী হোসেনসহ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ আমাদের আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আলী হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কর্ণফুলী থানার বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
এদিকে যুবদল নেতা পরিচয়ে চাঁদা দাবির বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আলী হোসেন নামের কোনো বিএনপি কর্মীকে আমি চিনি না। আপনারা তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিন।