১২ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৩২

ইবিতে অর্থের প্রলোভনে বহিরাগত শিশুকে যৌন হয়রানি, ভ্যানচালক আটক

অভিযুক্ত ভ্যানচালক জীবন  © টিডিসি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে অর্থ ও মোবাইল ফোন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে এক ভ্যানচালকের বিরুদ্ধে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ভ্যানচালক জীবনকে আটক করেছে ইবি থানা-পুলিশ।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে টিএসসিসির ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন বলেন, “ভুক্তভোগী ছেলে শিশুটি একটি ইজিবাইকে করে যাচ্ছিল এবং অভিযুক্ত জীবন ওর নিজের ভ্যানে করে যাচ্ছিল। ইবির পার্শ্ববর্তী একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে তারা একটি ফোন নিয়ে কথা বলছিল। আমরা এগিয়ে যাওয়ার পরে অটোওয়ালা বলে, ‘ভাই, আমি তো রানিংয়ের উপর আছি, আপনারা এই ব্যাপারটা দেখেন।’ এ সময় দুজনেই একটি ফোনকে নিজের দাবি করছিল। পরে দুজনকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসা করার পর ভুক্তভোগী শিশু জানায় তাকে ৫০০ টাকা আর মোবাইল ফোনের লোভ দেখিয়ে টিএসসির বাথরুমে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত জীবন ইবি ক্যাম্পাসে ভ্যান চালান। ভুক্তভোগী শিশুও ক্যাম্পাসে ভিক্ষা করে। তার বাসা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার স্টেশন মোড় এলাকায়। আজ ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুকে ৫০০ টাকা এবং একটা মোবাইল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী শিশুকে ৫০ টাকা দিলেও বাকি টাকা ও মোবাইল ফোনটি দেননি জীবন। ফোন নিয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরে ভুক্তভোগী শিশুকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং অভিযুক্ত ভ্যানচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযুক্ত ভ্যানচালক জীবন এর  আগেও এক ছেলে শিশুকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘ক্যাম্পাস ছুটি থাকায় শিক্ষার্থী সংখ্যা কম আজকে। সংশ্লিষ্ট দুজনেই প্রতিবন্ধী, টাকা ও মোবাইল ফোনের প্রলোভন দেখিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা খবর পাওয়ার পরই পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ভুক্তভোগীকে মেডিকেলে পরীক্ষা করিয়েছি এবং পরবর্তী সময়ে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ পরবর্তী সময়ে যা ব্যবস্থা নেওয়া যায় নেবে।’

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে‌। গ্রেপ্তারকৃত আসামী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগী শিশুর মেডিকেল টেস্টের জন্য  হসপাতালে প্রেরণ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার শারীরিক (ধর্ষণ-সংক্রান্ত) পরীক্ষা এবং শরীরে ডিএনএ আলামত রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ভিকটিমের শিশুটির পরিবারকে দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ভিকটিমের পরিবারকে পাওয়া গেলে তারা বাদী হয়ে মামলা করবেন। অন্যথায়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা রুজু করবে।