১১ আগস্ট ২০২৬, ১৬:১৫

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ অক্টোবর

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন  © সংগৃহীত

দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধ বল প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পারস্পরিক জোগসাজশে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আগামী ২৭ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে এদিন মামলার তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর পক্ষে কোন প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি৷ এজন্য ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন করে এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়েরের আবেদন করেন। ওইদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।  

মামলার এজাহারে অন্যান্য আসামিরা হলেন- ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুফ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালক আরাস্ত খান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ  পিএলসি’র পরিচালক প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালক আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালক সাইফুল ইসলাম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ  পিএলসি’র পরিচালক সৈয়দ আবু আসাদ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালক মো. কামরুল হোসেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালক আহসান আলম ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালক প্রফেসর ডা. মো. সেলিম উদ্দিন।

এছাড়াও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ  পিএলসি’র পরিচালক শওকত হোসেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালক খুরশিদ-উল-আলম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালক প্রফেসর ডা. কাজী শহীদুল আলম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালক মেজর জেনারেল (অব:) ইঞ্জি. আবদুল মতিন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ  পিএলসি’র পরিচালক জামাল মোস্তফা চৌধুরী এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি'র পরিচালক প্রফেসর ডা.মো. সিরাজুল করিম।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, আসামিদের পরিচালিত ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করেন। যা প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ। এসব শেয়ারের মোট মূল্য ২৫১ কোটি টাকা।

ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। মাত্র ৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে, পরস্পরের যোগসাজশে ও একই অভিপ্রসভঙ্গের মাধ্যমে জনগণের অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এ লেনদেন সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এর মোট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছে ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি, যাদের অনেককেই এস. আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ সংক্রান্ত তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে, শেয়ার বিক্রি ও ক্রয়ের তারিখ উভয় পক্ষের ক্ষেত্রেই একই দিনেই সংঘটিত হয়েছে, অর্থাৎ শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি পূর্ব-পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

এস. আলম গ্রুপ, তার মালিক/উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি এবং তাদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালকগণ সম্মিলিতভাবে এই ব্যাংকের উপর দখল প্রতিষ্ঠার কৌশল অবলম্বন করেছেন এবং তার দায়-দায়িত্বও সম্মিলিতভাবেই তাঁদের উপর বর্তায়। এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, অবৈধভাবে নিজেরা লাভবান হয়ে জনগণের অর্থের তসরূপে একই অভিপ্রায়ে ফৌজদারী বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।