রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওয়াশরুম থেকে এএসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি পুলিশ ক্যাম্পের ওয়াশরুম থেকে এএসআই রুবেল হোসেন (৩১)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ইরানি পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) ভোরে ওই ক্যাম্পের ওয়াশরুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবারের রোলকলে এএসআই রুবেল হোসেনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এরপর ক্যাম্পের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করেন। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এরপর শনিবার ভোরে ক্যাম্পের বাবুর্চি শরীফ রান্নার কাজে যাওয়ার সময় ওয়াশরুমে যেতে চান। তখন তিনি ওয়াশরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দরজায় ধাক্কা দিয়েও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি তিনি। পরে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকান শরীফ। তখন তিনি একজনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি ক্যাম্পের অন্য সদস্যদের জানান। কয়েকজন সদস্যও জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে এএসআই রুবেল হোসেনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ আমীন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও উখিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে ওয়াশরুমের ভেতর থেকে বন্ধ থাকা স্টিলের দরজা কেটে রুবেল হোসেনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় ওয়াশরুমের ভেতর থেকে রুবেল হোসেনের ব্যবহৃত গোসলের তোয়ালে, টর্চলাইট, মুঠোফোন ও সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে।
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ আমীন বলেন, ‘আমাদের এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ ওয়াশরুম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোক করে অথবা পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও আইনগত তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, ওয়াশরুম ব্যবহারের সময় স্ট্রোক করে রুবেল হোসেনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত ও আইনগত তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।